পাথেয় ডেস্ক : রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণহত্যার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পথেই এগোচ্ছে বিশ্ব সম্প্রদায়। জাতিসংঘের স্বাধীন সত্যানুসন্ধানী দল গত সোমবার তাদের এক প্রতিবেদনে দেশটির সেনাপ্রধানসহ শীর্ষ জেনারেলদের বিরুদ্ধে গণহত্যার তদন্ত ও বিচার শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতেই বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা গণহত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষী জেনারেলদের শাস্তি নিশ্চিত করবে এমন সম্ভাবনা একেবারেই শূন্য। এ ক্ষেত্রে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে কয়েকটি বিকল্প নিয়ে এগোচ্ছে বিশ্ব সম্প্রদায়।
প্রাথমিকভাবে গণহত্যার ইস্যুটি জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিসি) তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের অনুমোদনের দরকার হবে। এ ক্ষেত্রে সফলতা না এলে বিচারের বিকল্প পথ রয়েছে।
রুয়ান্ডা গণহত্যা ও সেব্রেনিকা গণহত্যার বিচারের ন্যায় পৃথক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে। পৃথক এ ট্রাইব্যুনালেই গণহত্যার অপরাধে ফেঁসে যেতে পারেন মিয়ানমার সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংসহ সেনাবাহিনীর শীর্ষ ছয় জেনারেল।
গণহত্যার দোষীদের বিচার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতার ওপর নির্ভর করছে। তবে পরিষদের সব সদস্যের সহযোগিতা ও সমর্থন পাওয়া যাবে না বলেই মনে হচ্ছে। সোমবারের প্রতিবেদনে জাতিসংঘ সত্যানুসন্ধানী মিশন পরামর্শ দিয়েছেন, রুয়ান্ডা এবং সাবেক যুগোশ্লাভিয়ার যুদ্ধাপরাধের বিচার যেভাবে হয়েছে সে রকম স্বাধীন একটি অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে।
এ ধরনের অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মাধ্যমেই গঠন করা যেতে পারে। আবার জাতিসংঘের কোনোরূপ সহযোগিতা ও সমর্থন ছাড়াও গঠন করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো দেয়ার বিষয়টি এড়ানো সম্ভব হবে।
আইনজীবীরা এখন এ উপায় নিয়েই চিন্তাভাবনা করছেন। বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক আইন বিশ্লেষক ও আইনি পরামর্শক গুয়ের্নিকা ৩৭ ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস চেম্বার্সের প্রধান টোবি ক্যাডম্যান বলেন, ‘আমরা যেটা করার চেষ্টা করছি সেটা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের মাধ্যমে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ বিচার ব্যবস্থার ব্যবহার করে একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা। এরপর গণহত্যার অপরাধ হিসেবে রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতকরণ বা বিতাড়নের ওপর আলোকপাত করা। এবং এটা করার আইনি অধিকার উভয় পক্ষেরই রয়েছে।’
ক্যাডম্যান আরও বলেন, মিয়ানমার আন্তর্জাতিক আদালতে স্বাক্ষরকারী দেশ নয়। ফলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার আইনি অধিকার আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থার নেই। তবে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে- এটা এ মামলার খুবই গুরুত্বপূর্ণ দিক। আর এটার ওপর ভিত্তি করেই মিয়ানমারকে গণহত্যার অপরাধে বিচার করার সুযোগ আন্তর্জাতিক আদালতের হাতে রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘কোনো জনগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতকরণ গণহত্যার একটা তাৎপর্যপূর্ণ উপাদান।’


