পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : (দেওবন্দ) ‘উন্নত চরিত্র গঠনে কার্যত পদক্ষেপ ও আসন্ন নির্বাচনে সঠিক ভোটাধিকার’ বিষয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার চরথাউলের মরিয়মপুরা মসজিদে জমিয়তে উলামা হিন্দের এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে জমিয়ত উত্তর প্রদেশের স্থায়ী কমিটির সদস্য মাওলানা হাফেজ মুহাম্মদ ফোরকান উদ্দিন আসআদী বলেন, ভোট দেয়া আমাদের জাতীয় অধিকার। কিন্তু ভোট দেয়ার আগে সঠিক ভোটের চূড়ান্ত পরিস্থিতি হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, ভোটার লিস্টে একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর নাম না থাকাটা অত্যন্ত দুঃখজনক। জমিয়তে উলামা হিন্দ পুরো রাজ্যব্যাপী ভোটাধিকার নিশ্চয়তা এবং ভোটার কার্ড শনাক্তকরণে কাজ করে আসছে।
তিনি বলেন, রাজ্যের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের উচিৎ হবে রাজ্যের সঙ্কট নিরসন ও দেশের উন্নতিতে মনোযোগ দান এবং সর্বাবস্থায় জনগণকে খুশি রাখার প্রত্যয়ে কাজ করা। তবে এর সঙ্গে আরো বেশী দরকার হলো, মুসলমানদের এসব বিষয়গুলোতে খুব বেশী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা। দেশের সার্বিক সব পরিস্থিতির উপর নযর রাখা, যেন সরকারি দস্তাবেজে এ নিয়ে কোনও অপূর্ণতা না থাকে। এ জন্য আমাদের সবসময় চৌকশ থাকতে হবে।
তিনি বর্তমান আসাম সঙ্কটের কথা উল্লেখ করে বলেন, চল্লিশ লাখেরও অধিক মানুষের নিজেদের ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণে অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে। তাদের সামনে এ মুহূর্তে বিশাল সমস্যা। সুতরাং সময় থাকতেই আমাদের এই সঙ্কাটবস্থার মোকাবেলায় সচেষ্ট হতে হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা ভারতজুড়েই ভোটপ্রাপ্তি এবং ভোটার কার্ড শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া চলছে। যা ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ অক্টোবর ২০১৮ পর্যন্ত জারি থাকবে। এ সময়ে সবাইকেই ভোটার হওয়া এবং ভোটার কার্ড নিশ্চিতকরণে জোর তাগিদ দেয়া হচ্ছে।
হাফেজ আসআদী বলেন, মহল্লায় মহল্লায় শিক্ষিত মুসলিম যুবকদের কমিটি গঠন করে ভোটাধিকার বিষয়ে সবাইকে জানানো হোক। কিছু যুবক ভোট গ্রহণ কমিটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে মিশে একত্রে কাজ করতে পারে। কেউ ঘরে ঘরে গিয়ে এ বিষয়ে লোকদের সাহায্য করতে পারে।
উন্নত চরিত্র গঠনের ব্যাপারে মাওলানা আসআদী বলেন, আজকাল আমাদের মাঝে ব্যাপক ফেতনা ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে অন্যান্যরা উন্নতির শীর্ষে অবস্থান করছে, সেখানে মুসলমানদের অবস্থা হলো তারা হিংসা, বিদ্বেষ, দ্বীন-ধর্ম থেকে দূরে সরে একে অপরের প্রতি ক্ষোভের দৃষ্টি নিক্ষেপ করে চলছে প্রতিনিয়ত। নিজেদের ঘাতপ্রতিঘাতেই শেষ করে দিচ্ছে একে অপরকে। মুসলিম পাড়া-মহল্লাগুলোয় দেখা যায় সেখানে নোংরা, অপরিচ্ছন্নতা একাকার হয়ে থাকে। মুসলিম শিশুদের একটি বড় অংশই মাদরাসা ও স্কুল শিক্ষার বাইরে। রেওয়াজ-রুসুমের বায়না দেখিয়ে বিবাহ ও এ জাতীয় অন্যান্য আচার অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত খরচায় অহংকার প্রদর্শনের ধুম পড়ে যায়। যেখানে সন্তানদের সঠিক প্রতিপালন ও শিক্ষা-দীক্ষায় অর্থ খরচের বেশী প্রয়োজন ছিলো। অথচ হচ্ছে এর বিপরীত। যা অত্যন্ত দুঃখের ও হতাশার।
তিনি সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষাদানের ব্যাপারে জোর দিয়ে বলেন, সন্তানদের শিক্ষিত করে তুলতে হবে। তাদের শিক্ষায় দ্বীনি বিষয়কে অপরিহার্য রাখতে হবে।
অনুবাদ ও গ্রন্থনা : কাউসার মাহমুদ
তথ্যসূত্র : ডেইলি হামারা সামাজ, দিল্লী
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির


