‘গুজরাটে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় সেনা নামাতে দেরি না’হলে বাঁচত শত শত প্রাণ’

‘গুজরাটে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় সেনা নামাতে দেরি না’হলে বাঁচত শত শত প্রাণ’

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতের গুজরাটে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার সময় প্রশাসন সেনা নামাতে চব্বিশ ঘন্টারও বেশি দেরি করেছিল, যদি চব্বিশ ঘন্টা দেরি না হত তাহলে হয়তো বহু প্রাণহানি ঠেকানো যেত। এই অভিযোগ করেছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল।

ভারতের গুজরাটে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় সেনা মোতায়েন নিয়ে বিশেষ তদন্তকারী দল ‘মিথ্যা’ প্রতিবেদন দিয়েছিল বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা জামিরউদ্দিন শাহের। তিনি বলেন, আহমেদাবাদে পৌঁছনোর পরে এক দিন যানবাহন না পাওয়ায় দাঙ্গা-বিধ্বস্ত এলাকায় পৌঁছাতে পারেনি সেনারা।

প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট জেনারেল জামিরউদ্দিন দাবি জানিয়ে বলেন, গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে দ্রুত যানবাহন চেয়েছিলেন তিনি। অনুরোধ জানানোর সময়ে প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্দেজও হাজির ছিলেন। কিন্তু তা-ও এ নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন। ২০০২ সালে গুজরাটে হিন্দু ও মুসলিমের মধ্যে ভয়াবহ দাঙ্গা হয়। দাঙ্গায় দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়। যাদের বেশির ভাগই মুসলিম। ওই সময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বর্তমানের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

দাঙ্গা মোকাবেলায় মোতায়েন করা সেনাদের নেতৃত্বে ছিলেন সেনাবাহিনীর সাবেক উপপ্রধান জমিরউদ্দিন শাহ। ভয়াবহ সেই দাঙ্গার স্মৃতি নিয়ে সম্প্রতি স্মৃতিকথা লিখেছেন তিনি। সদ্য প্রকাশিত বইটিতে দাঙ্গা ঠেকাতে রাজ্য সরকারের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছেন। শনিবার ‘দ্য সরকারি মুসলমান’ নামে ওই বইটি প্রকাশিত হয়। প্রকাশনা অনুষ্ঠানে আরও অনেকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ভারতের সাবেক উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারি। তিনিও দাঙ্গার সময় রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

প্রাক্তন সিবিআই কর্মকর্তা আর কে রাঘবনের নেতৃত্বাধীন বিশেষ তদন্তকারী দল মোদিকে ‘ক্লিনচিট’ দিয়েছে। সেই দলের রিপোর্টে জানানো হয়েছিল, দাঙ্গা সামলাতে সেনা মোতায়েনে দেরি করা হয়নি। সিট রিপোর্টে জানিয়েছে, অতিরিক্ত মুখ্যসচিব (স্বরাষ্ট্র) অশোক নারায়ণের সাক্ষ্য থেকে এ কথা জানা গেছে। কিন্তু জামিরউদ্দিনের দাবি, রিপোর্টে একেবারে মিথ্যে কথা লেখা হয়েছে।

তিনি জানিয়েছেন, ২০০২ সালের ১ মার্চ সকাল সাতটার সময়ে আহমেদাবাদে ৩ হাজার সেনা পৌঁছায়। দুপুর ২টার সময়ে জর্জ ফার্নান্দেজের উপস্থিতিতে নরেন্দ্র মোদির কাছে সেনাদের জন্য যানবাহন চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এক দিন পরে যানবাহন ও অন্যান্য উপকরণ হাতে পেয়েছিলেন জামিরউদ্দিন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি সামলায় সেনা। জামিরউদ্দিনের বক্তব্য, পুরো ঘটনার কথা অভিযান পরবর্তী রিপোর্টে লেখা রয়েছে। জামিরউদ্দিনের বক্তব্য সমর্থন করেছেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল এস পদ্মনাভনও। প্রাক্তন সেনা অফিসারের কথায়, সেনা মোতায়েনে দেরি প্রশাসনের ব্যর্থতা। তবে প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি আনসারি প্রশ্ন তোলেন, প্রশাসন ব্যর্থ হলে দায়টা কার? কিন্তু বিশেষ তদন্তকারী দলের প্রাক্তন প্রধান রাঘবন এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে চাননি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *