পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার পর আবারও জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে উঠেছে চাঁদা দাবির মামলা হয়েছে। জমি বিক্রিতে বাধ্য করার চেষ্টা ও এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে আশুলিয়া থানায় এ মামলা হয়েছে বলে জানা যায়।
১৫ অক্টোবর সোমবার রাতে মানিকগঞ্জের মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলাটি করেন। এই মামলায় জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছাড়াও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সাইফুল ইসলাম শিশির, গণবিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার দেলোয়ার হোসেন ও আওলাদ হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার মোহাম্মদ আলী বাদীর অভিযোগ, ২০০৩ সালে পাথালিয়া মৌজার প্রায় চার একর ২৪ শতাংশ জমি তিনিসহ আরও দুজন কিনেছিলেন। ওই জমি কেনার জন্য জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও তার লোকজন তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন। নামমাত্র মূল্যে জমি বিক্রির জন্য তিনি ও তার শরিকদের চাপ দেয়ার পাশাপাশি জীবননাশের হুমকি দেয়া হচ্ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়। বাদীর আরও অভিযোগ করে বলেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র তাদের জমি থেকে জোর করে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মাটি কেটে নিয়ে গেছে। এ ধরনের অত্যাচারে তিনি এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বাইপাস সার্জারি করতে হয়। এসব ঘটনায় সাভার ও আশুলিয়া থানায় একাধিক জিডি করা হয়েছিল বলে জানান মোহাম্মদ আলী।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সর্বশেষ গত ১৪ অক্টোবর মোহাম্মদ আলী ও তার শরিক আনিছুর রহমান জমিতে থাকাবস্থায় জাফরুল্লাহর সহযোগী দেলোয়ার হোসেন, সাইফুল ইসলাম শিশির এবং আওলাদ হোসেনসহ ৩/৪জন জমিতে ঢুকে জানান, তারা জাফরুল্লাহর নির্দেশে এসেছেন। পরে ওই জমি তাদের কাছে বিক্রির জন্য চাপ দেয়া হয়। জমি বিক্রি না করলে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন তারা। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তারা হুমকি দেন এবং জমির কাঁটা তারের বেষ্টনী, সাইনবোর্ড ও একটি গেট ভাংচুর করেন। এই মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে আশুলিয়া থানার ওসি রিজাউল হক দিপু জানান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ চার জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। মামলা নম্বর ৪১।
কিছুদেন আগে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশো অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধানের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে জিডি হয়। এই জিডিটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে এটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের জন্য ডিবি পুলিশকে স্থানান্তর করা হয়। সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো: আব্দুল বাতেন বাসসকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ফজলুর রহমানকে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয়েছে।


