ভারতের অমৃতসরে ট্রেন দুর্ঘটনায় ৬২ জন নিহত

ভারতের অমৃতসরে ট্রেন দুর্ঘটনায় ৬২ জন নিহত

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : হায় আতশবাজি, হায় ধর্মীয় মূল্যবোধ- কোথায় মানবতা? ধুঁকে ধুঁকে মরছে মানুষের প্রতি দরদিয়া আহ্বান। রাবণ বধের নামে চলা আতশবাজির শব্দে বুধ হয়ে থাকা মানুষগুলো পিষ্ট হলো ট্রেনের নিচে পড়ে প্রাণ হারালো। এ তো রাবণবধ নয় মানুষ বধ হয়ে গেল।

নুষবধেরই কোনো চক্রান্ত নয় তো সেটা? জানা নেই এ প্রশ্নের কী জবাব। এরকমই অমৃতসরের আকাশ বাতাসে মানুষের কান্নার রোলে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের অমৃতসরে ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ৬২ জন নিহত হয়েছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ট্রেনটি জালান্দর থেকে অমৃতসরে আসছিল। অমৃতসরের জোড়া ফটকের কাছেই হিন্দু ধর্মীয় অনুষ্ঠান ‘রাবণ বধ’ চলছিল। রাবণের কুশপুত্তলিকায় আগুন দেওয়া হচ্ছিল। এসময় আতশবাজির শব্দে ভিড়ে দাঁড়িয়ে থাকা লোকেরা ট্রেনের হুইসেল শুনতে পাননি।

অমৃতসরের পুলিশ কমিশনার এসএস শ্রীভাসতাভা বলেন, ৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। উদ্ধার কার্যক্রম চলছে। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

এ দুর্ঘটনায় শিশুও নিহত হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলে প্রায় ৭০০ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

যেসব ছবি স্থানীয় সাংবাদিকরা পাঠিয়েছেন, তা ভয়াবহ। শরীরের নানা অংশ রেল লাইনের আশেপাশে পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে।
প্রচুর বাজি ফোটনোর শব্দ হচ্ছিলো, ফলে ট্রেন আসার শব্দ মানুষ শুনতে পায়নি।

রাবন-দহনের সময়ে বহু মানুষ সেটার ভিডিও করছিলেন মোবাইল ফোনে। বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেয়া একজন পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য।
এরকমই একটি ভিডিও বিবিসি-র হাতে এসেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে, রাবণের কুশপুতুলে আগুন দেওয়া হয়েছে, আর তার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একটি ট্রেন বেশ দ্রুতগতিতে চলে গেল।

ওই ট্রেনটি পাঠানকোটের দিক থেকে আসছিল বলে জানা গেছে।

স্থানীয় টিভি চ্যানেলগুলি প্রত্যক্ষদর্শীদের যে বয়ান দেখাচ্ছে, সেখানে বলতে শোনা যাচ্ছে যে প্রতি বছরই এই জায়গায় রাবণ পোড়োনো হয় কিন্তু ওই সময়টায় ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে, বা অতি ধীরে ট্রেন যায়। কিন্তু এবারে ট্রেনটি দ্রুতগতিতে চলে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শী অমিত কুমার বিবিসিকে জানিয়েছেন, বহু মানুষ রেল লাইনের ওপরেই ভিড় করে দাঁড়িয়েছিলাম প্রতি বছরের মতোই। রাবন দহন দেখছিলাম, হঠাৎ করেই জোরে ট্রেনটা এসে পড়ল লোকের ওপর দিয়ে চলে গেল। কোনও হর্ণ বাজায় নি, ট্রেনের গতিও কমায়নি একটুও।
বন্ধুদের সঙ্গে রাবণ দহন দেখতে জোড়া ফটকে গিয়েছিলেন রবি। বিবিসিকে তিনি বলেন, তার এক বন্ধুকে দুর্ঘটনার পর থেকে খুঁজে পাচ্ছেন না।
এত জোরে ট্রেনটা চলে এল, মানুষ সরে যাওয়ার সময়ই পায়নি। হর্নও দেয়নি।

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং টুইট করে জানিয়েছেন, তিনি অমৃতসরে পৌঁছাচ্ছেন ব্যক্তিগতভাবে উদ্ধার কাজ তদারকি করতে। নিহতদের পরিবারের জন্য ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি।

সূত্র : পার্সটুডে ও বিবিসি অবলম্বনে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *