পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ‘নিখোঁজ’ সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে সৌদি আরব। সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে কনস্যুলেটের মধ্যেই হত্যা করা হয়েছে বলেই জানান দেশটির প্রধান কৌঁসুলি। এক বিবৃতিতে এ কথা জানান তিনি। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।
২০ অক্টোবর শনিবার সৌদি সরকারের টেলিভিশনের বরাত দিয়ে বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, খাসোগি হত্যার সঙ্গে জড়িত দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দেশটির গোয়েন্দা বিভাগের উপপ্রধান আহমাদ আল-আসসিরি ও ক্রাউন প্রিন্স সালমানের নিরাপত্তারক্ষী সৌদ আল-কাহতানিকে বহিষ্কার করা হয়।
সৌদি টেলিভিশনে দেওয়া ওই বিবৃতির বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি কনস্যুলেটে দেখা করতে যাওয়া কয়েকজনের সঙ্গে খাশোগির লড়াই হয়ে। এর কিছু পরেই খাশোগির মৃত্যু হয়।
যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড এ ঘটনাকে অপ্রত্যাশিত বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, সৌদিকে অনেক বড় বন্ধু আমাদের।
সৌদি রাষ্ট্রীয় টিভির নিউজ বুলেটিনে বলা হয়েছে, খাশোগি হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অংশ হিসেবে ১৮ সৌদি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। এই প্রথম সৌদি রাজতন্ত্রের পক্ষ থেকে জামাল খাশোগির নিহত হওয়ার খবর স্বীকার করা হলো। মেজর জেনারেল আহমাদ আল-আসিরি ইয়েমেনের ওপর সৌদি আগ্রাসনের ব্যাপারে রাজতান্ত্রিক দেশটির শীর্ষ মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছিলেন
সৌদি রাজা সালমান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার কিছুক্ষণ পর রাষ্ট্রীয় টিভির নিউজ বুলেটিনে এ ঘোষণা দেয়া হয়।
সৌদি আরবের সরকারি কৌঁসুলির বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে খাশোগির সঙ্গে কয়েকজন ‘সাক্ষাৎপ্রার্থী ব্যক্তির মারামারি’ হয় এবং এর জের ধরে তার মৃত্যু হয়েছে।
খাশোগি হত্যার দায়ে বরখাস্ত হওয়া সৌদ আল-কাহতানি সৌদি রাজপ্রাসাদের একজন প্রভাবশালী সদস্য এবং যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের সিনিয়র উপদেষ্টা। এ ছাড়া, মেজর জেনারেল আহমাদ আল-আসিরি ইয়েমেনের ওপর সৌদি আগ্রাসনের ব্যাপারে রাজতান্ত্রিক দেশটির শীর্ষ মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সৌদ আল-কাহতানি সৌদি রাজপ্রাসাদের একজন প্রভাবশালী সদস্য এবং যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের সিনিয়র উপদেষ্টা
জেনারেল আসিরি ২০১৭ সালে এক সাক্ষাৎকারে ইয়েমেনের ওপর সৌদি বর্বরতা সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছিলেন। তুর্কি তদন্ত কর্মকর্তারা শুরু থেকে এই দুই ব্যক্তির জড়িত থাকার কথা বলে আসলেও রিয়াদ সেসব অভিযোগ বেমালুম অস্বীকার করে আসছিল।
গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর থেকেই রাজপরিবারের নীতির কট্টর সমালোচক খাসোগির কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছিলো না। এ ঘটনায় তুরস্ক অভিযোগ তোলে যে সৌদি গুপ্তচররা কনস্যুলেটের ভেতরেই নির্যাতন ও হত্যার পর খাসোগিরলাশ গুম করে ফেলেছে।
তবে ঘটনার পর থেকে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার কথা অস্বীকার করে আসছিল সৌদি আরব। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসিত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি গত ২ অক্টোবর নিজের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে যান। সেখান থেকে তাঁকে আর বের হতে দেখা যায়নি। এর পর থেকে এ বিষয়ে সৌদি আরবের বক্তব্য ছিল, খাসোগি কনস্যুলেট ভবন থেকে বের হয়ে গেছেন। অন্যদিকে তুরস্ত খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে এবং কনস্যুলটের ভেতরেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তুরস্কের পক্ষ থেকে কনস্যুলট থেকে খাসোগি বের বের হওয়ার বিষয়ে সৌদির কাছে প্রমাণ চাওয়া হয়। তারা তা দিতে ব্যর্থ হয়।
সৌদি রাজপরিবার নীতির সামালোচনার কারণে প্রাণভয়ে প্রায় এক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসনে যান তিনি। এরপর গত ২ অক্টোবর তুর্কি বাগদত্তা হেতিস চেঙ্গিসকে বিয়ে করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় করতে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে ঢুকেছিলেন জামাল খাসোগি। এ সময় চেঙ্গিস কনস্যুলেট ভবনের বাইরে তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। প্রায় নয় ঘণ্টা অপেক্ষার পরও খাসোগিকে কনস্যুলেট থেকে বের না হতে দেখে। তুর্কি কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন হেতিস।


