হামাস বলছে, ফিলিস্তিনিদের পিঠে ছুরি মেরেছে ওমান

হামাস বলছে, ফিলিস্তিনিদের পিঠে ছুরি মেরেছে ওমান

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ওমানে নেতানিয়াহুর সফর ও আম্মানে তাকে অভ্যর্থনা জানানোর পর ইহুদিবাদী ইসরাইল এবং কয়েকটি আরব দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকরণের প্রচেষ্টার কড়া নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের কয়েকটি সংগঠন। তারা এর তীব্র সমালোচনা করছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নজিরবিহীন ওমান সফরের পর এসব সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হলো।

ইহুদিবাদী অপরাধযজ্ঞের মুল হোতা এবং ফিলিস্তিন ধ্বংসের মুল হোতা যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে স্বাগত জানানোর জন্য ওমানের কঠোর সমালোচনা করেন হামাস। অবরুদ্ধ গাজা ভিত্তিক ইসলামি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস এ ব্যাপারে তাদের নিন্দা জানিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। সংগঠনটি বলেছে,

হামাস এ সফরকে আমরা ইহুদিবাদী শাষকগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে গণ্য করছে। এর মাধ্যমে ওমান ফিলিস্তিনিদের পিঠে ছুরি মেরেছে। হামাস হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, এ সফর ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকার ভুলণ্ঠিত করার পাশাপাশি তাদের ওপর আরো ব্যাপকমাত্রায় দমন পীড়ন বাড়িয়ে দিতে ইসরাইলকে উৎসাহিত করবে। আমরা এটাকে একটি ঘৃণ্য কাজ হিসেবেই দেখছি।

প্রতিরোধকামী এ সংগঠন ইসরাইলকে বয়কট করার আহবান জানিয়েছে সংগঠনটি। এর পাশাপাশি ইহুদিবাদী এ শাষক গোষ্ঠীকে একঘরে করার নীতি থেকে সরে না আসতে আরব দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা। অন্যদিকে, ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের উপদেষ্টা এবং ফাতাহ আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোহাম্মদ সাতায়ে নেতানিয়াহুর সফরকে আরব শান্তি প্রক্রিয়ার মৃত্যুঘন্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন।

হামাস এর পূর্ণরূপ হলো হারাকাত আল-মুকাওয়ামা আল-ইসলামিয়া, “ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন” ফিলিস্তিনি সুন্নি ইসলামী বা ইসলামী রাজনৈতিক দল যে গাজা স্ট্রিপ নিয়ন্ত্রণ করে। হামাসের ইজ্ আদ-দীন আল-কাসসাম ব্রিগেড নামে একটি সামরিক শাখা আছে। জানুয়ারী ২০০৬ সালে ফিলিস্তিনি পার্লামেন্ট সংসদীয় নির্বাচনে অধিকাংশ আসন জিতে, জুন ২০০৭ সাল থেকে হামাস ফিলিস্তিন অঞ্চলের গাজা ভূখণ্ড পরিচালিত করছে এবং তারপর সহিংস সংঘাতের মাধ্যমে ফাতাহ রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে পরাজিত করেছে।

ফিলিস্তিনে দুটি দল বেশ সক্রিয়। একটি হামাস, অন্যটি ফাতাহ। এর মধ্যে হামাসের দখলে রয়েছে গাজা এলাকা। ২০০৪ সালে আরাফাতের মৃত্যুর পর হামাস ও ফাতাহ’র মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয় এবং সেটা চরম আকার ধারণ করে ২০০৬ এর নির্বাচনের পর। ঐ নির্বাচনে হামাস জয়ী হয় এবং এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আরব রাষ্ট্রসমূহ ফিলিস্তিনে সাহায্য বন্ধ করে দেয়। এরপর ২০০৭ সালে হামাস ফাতাহ সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীকে পরাজিত করে গাজার দখল নিয়ে নেয়। সেই থেকে গাজা শাসন করছে হামাস।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *