পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতের আসাম রাজ্যে ১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে পাঁচ বাঙালিকে তুলে নিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে আসামের তিনসুকিয়া জেলার ধলা এলাকার খেরবাড়ি গ্রামে একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে ৭ বাঙালিকে অপহরণ করা হয়। পরে ব্রহ্মপুত্র নদীর চরে লাইন ধরে দাঁড় করিয়ে তাঁদের গুলি করা হয়। এতে ঘটনাস্থলে পাঁচজন নিহত হন। গুরুতর আহত হন দুজন।
আসামের জঙ্গি সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব অসম (ইনডিপেনডেন্ট) এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। ইতি মধ্যে জঙ্গি সংগঠন উলফা হত্যার দায় অস্বীকার করে নিয়েছে বলে জানা যায়।
ঘটনার পর গোটা রাজ্যে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বাঙালি ছাত্র ফ্রন্টের ডাকে তিনসুকিয়া জেলায় শুক্রবার পালিত হচ্ছে হরতাল।
ঘটনার নিন্দা করে মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল জানিয়েছে, দায়ী ব্যক্তিদের কঠোরহস্তে দমন করা হবে। এর মধ্যে রাজ্যে সেনা ও পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তারের কোনো তথ্য নেই। বাঙালি হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করেছে বিভিন্ন দল ও সংগঠন। এমনকি আলোচনাপন্থী উলফা নেতারাও হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে যথাযথ তদন্তের দাবি করেছে।
জানা যায়, ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে পাঁচ বাঙালিকে হত্যার রেশ এখন পশ্চিমবঙ্গেও পড়েছে। আসামের মতো পশ্চিমবঙ্গেও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। আসামে এই ঘটনা যখন ঘটে, তখন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনিক বৈঠক করতে শিলিগুড়িতে অবস্থান করছিলেন। খবর শুনে তিনি প্রচণ্ড খেপে যান।
এক টুইট বার্তায় মমতা বলেন, তিনসুকিয়ার নৃশংস হামলার নিন্দা করছি। এটা কি নাগরিক পঞ্জির ফল? নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর ভাষা নেই। দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
একই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ডাকে প্রতিবাদী মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বেলা ২টায় কলকাতার মৌলালি মোড় ও হাজরা মোড় থেকে দুটি পৃথক প্রতিবাদ মিছিল বের হবে। মিছিল যাবে কলকাতার ধর্মতলার গান্ধীমূর্তি পাদদেশে। সেখানে অনুষ্ঠিত হবে প্রতিবাদ সমাবেশ।
বেশ কিছু দিন ধরেই আসাম অশান্ত। সেখানে বাঙালিবিরোধী আন্দোলন চলছে। জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন বা এনআরসির জেরে আসাম থেকে বিতাড়নের মুখে ৪০ লাখ বাঙালি। এই বাঙালিদের আসাম থেকে বিতাড়নের জন্য বিভিন্ন অসমিয়া আঞ্চলিক জঙ্গি সংগঠন মাঠে নেমে পড়েছে।


