নারীর অবদান ও মূল্যায়ন ভাবনা (এক)

নারীর অবদান ও মূল্যায়ন ভাবনা (এক)

জিনাত রহমান : রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষে পড়ে সাহানা। চোখে অনেক স্বপ্ন। লেখাপড়া শেষ করে একদিন মানুষের মতো মানুষ হবে। বড় চকরি করবে। নারী হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবে সাহানা অবদান রাখতে চায় পরিবার এবং সমাজে। সন্তানরা বাবা চাকরি করেন- এ কথা গর্ব ভরে বললেও মা কিছু করেন না, তিনি গৃহিণী- এ কথা বলতে একটু সংকোচ বোধ করে।

নারীর গৃহস্থালির কাজ সার্বিক অর্থেই অবমূল্যায়িত। এখনো ক্ষেত্রবিশেষ কর্মক্ষেত্রে, মজুরিক্ষেত্রে নারীকে নারী হিসেবে দেখা হয়। অবমূল্যায়ন, বঞ্চনা সইতে হয় নারীকে। বাংলাদেশে নারীদের গৃহস্থালি কাজের রয়েছে চরম অবমূল্যায়ন। তাদের এ কাজের অর্থমূল্য হিসাব করা হয় না। এটা করা গেলে অর্থনীতিতে নারীর অবদান অনেক বাড়তো। জিডিপি অনেক বেশি হতো। দেশের গবেষণার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর গবেষণায়ও এ তথ্য উঠে এসেছে।

শ্রম শক্তি জরিপ ২০১৬-১৭ অনুযায়ী কর্মে নিয়োজিতদের মধ্যে আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত প্রায় ৪৪ দশমিক ৩ শতাংশ। চাকুরীজীবী ও পারিবারিক শ্রমে নিয়োজিত যথাক্রমে ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ ও ১১ দশমিক ৫ শতাংশ। পারিবারিক শ্রমে নিয়োজিতদের মধ্যে পুরুষ ১৭ লাখ ও নারী ৫৩ লাখ। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে ৬ লাখ ৯২ হাজার কর্মী (নারী পুরুষ নির্বিশেষে) বিদেশ গেছেন। বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও তাদের প্রেরিত অর্থ বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিসহ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিরাট অবদান রাখছে। বর্তমানে দেশে ৬ কোটি ৩৫ লাখ শ্রমশক্তি রয়েছে। এরমধ্যে পুরুষ ৪ কোটি ৩৫ লাখ ও নারী ২ কোটি। এরা বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৮ তাদের প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, উচ্চতর জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে সামিষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি মূল্য, মজুরি ও কর্মসংস্থান এই তিনটি সূচক খুবই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক।

কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। কৃষি ও শিল্পক্ষেত্রে, উদ্যোক্তা হিসেবে, অফিস-আদালতসহ সব ক্ষেত্রেই নারীরা কাজ করছেন দক্ষতার সাথে। তবে গৃহস্থালির কাজ করেন কিন্তু কোনো মজুরি পান না এমন নারীর সংখ্যা প্রায় এক কোটি। এদের মধ্যে কেউ আছেন পরিবারের সদস্য, আবার কেউ গৃহকর্মী। মজুরি ক্ষেত্রেও বৈষম্য রয়েছে, যেখানে নারীদের পুরুষের সমান মজুরিও দেওয়া হয় না। একই সমান কাজ, একই শ্রমঘণ্টা কাজ করেও সমান মজুরি হতে বঞ্চিত হন নারীরা।

লেখক : কলামিস্ট

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *