শনিবার বিকালে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন ড.কামাল

শনিবার বিকালে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন ড.কামাল

পাথেয় রিপোের্ট : বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অব্যাহত গ্রেফতার ও মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ১ ডিসেম্বর শনিবার বেলা ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করবেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন।

এছাড়া ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলোর মধ্যে আসন বণ্টনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে ৩ ডিসেম্বর।

৩০ নভেম্বর শুক্রবার রাতে বৈঠকের পর ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একথা জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, শনিবারই ড. কামাল হোসেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একটি সংবাদ সম্মেলন করবেন। আমরা আশা করছি, বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে।’

এছাড়া ৩ ডিসেম্বর শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে আসন বণ্টন ছাড়াও নির্বাচনী ইশতেহার, নির্বাচনী কৌশল নিয়েও আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটি। এর আগে ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচন কমিশনের মনোনয়ন বাছাইয়ের ফলাফল পর্যবেক্ষণ করা হবে। যারা বাছাইতে টিকবেন তাদের মধ্য থেকে যোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়া হবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তফসিল ঘোষণার পর থেকে গ্রেফতারের ঘটনা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, এ নির্বাচনে গণতান্ত্রিক নেতাকর্মীরা যাতে মাঠে থাকতে না পারে ও নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে, এজন্য পুরনো কায়দায় মিথ্যা মামলায় তাদের আসামি করা হচ্ছে। তাদের গায়েবি মামলায় গ্রেফতার করা হচ্ছে। নির্বাচনে যারা প্রার্থী তাদেরও গ্রেফতার করা হচ্ছে। নির্বাচনের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ এর ন্যূনতম অবস্থা এখন নেই।

তিনি বলেন, আমরা এ অবস্থার পরিবর্তন চাই। অবিলম্বে গ্রেফতার বন্ধ করতে হবে। ঘরে ঘরে তল্লাশি বন্ধ করতে হবে। নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে অবিলম্বে তাদের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে তার জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে দায় নিতে হবে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র বলেন, ঐক্যফ্রন্ট যে কোনো অবস্থাতে নির্বাচনে থাকবে এবং জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করবে। ফ্রন্টের শরিকদের সঙ্গে আসন বণ্টনের কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসন বণ্টনের হিসাব পাবেন ২ ডিসেম্বরের পরে। অর্থাৎ বাছাই হয়ে গেলে আমরা আপনাদের চূড়ান্ত হিসাব জানাতে পারব।

নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার প্রণয়নের কাজ চলছে। খুব শিগগিরই আপনারা ইশতেহারও দেখতে পারবেন।’

বৈঠকে ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী ও নেতারা ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন সম্পর্কে ‘কটুক্তি’ করছেন উল্লেখ করে এর নিন্দা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কারাবন্দি ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে ‘বেআইনিভাবে’ আটক করে রাখা ও জামিন না দেওয়ার ঘটনারও নিন্দা জানানো হয়।

গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে গতকাল ঐক্যফ্রন্টের এই বৈঠক হয়। একাদশ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম বৈঠক এটি।

বিএনপি, গণফোরাম, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে গতকালকের বৈঠকে বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মওদুদ আহমদ, গণফোরামের মোস্তফা মহসিন মন্টু, সুব্রত চৌধুরী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী, হাবিবুর রহমান তালুকদার, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, শহীদুল্লাহ কায়সার, মোমিনুল ইসলাম, জাহেদ উর রহমান, জেএসডির আবদুল মালেক রতন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মো. মনসুর, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *