নির্বাচনের আগে রাজনীতিবীদদের দলবদল নতুন কিছু নয়

নির্বাচনের আগে রাজনীতিবীদদের দলবদল নতুন কিছু নয়

পাথেয় রিপোর্ট : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এখনও চলছে রাজনীতিবীদদের দলবদল। বাংলাদেশে রাজনৈতিক হিসেব-নিকেষ মেলানোর নামে দলবদল নতুন কোনো বিষয় না। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে রাজনীতিবীদদের দলবদল বা ‘ডিগবাজি’ দেওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

তবে এটাও সত্য রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটা আদর্শ। কিন্তু ক্ষমতার মোহে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছে কখনও কখনও তাদের দীর্ঘদিনের আদর্শ হয়ে পড়ে গৌণ। আর তখনই সেসব রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সিদ্ধান্তকে ঘিরে শুরু হয়ে আলোচনা-সমালোচনা। বাংলাদেশের রাজনীতিতে দলবদল হরহামেশাই ঘটছে। তবে একাদশ জতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এবারকার দলবদল অতীতের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সাথে জোট করেছেন বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহচর ড. কামাল হোসেন। বিএনপির সাথে ড. কামালের জোট বাঁধার পরই দেশের মানুষ নানা ধরনের দল বদলের খেলা দেখেছে। জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করছেন মাহমুদুর রহমান মান্না, আ স ম রব, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। আর এই জোটে আসা-না আসা নিয়ে কম নাটক করেন নি বিকল্পধারা বাংলাদেশের ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও তার ছেলে মাহী বি চৌধুরী।

তবে আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আবু সাইয়িদ এবং দলটির সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনির দলবদল রাজনীতির ময়দানে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এছাড়াও আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত নেতা শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়ার ঐক্যফ্রন্টে ও বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মুবিন চৌধুরীর বিকল্পধারায় যাওয়াও কম আলোচনার জন্ম দেয়নি।

বিএনপির মনোনয়নে চট্টগ্রামের মেয়র হওয়া এম. মনজুর আলম আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। এমনকি আওয়ামী লীগের মনোনয়নের ফরমও সংগ্রহ করেছিলেন। তবে আওয়ামী লীগের নৌকায় ঠাঁই হয়নি তার। ২০১০ সালে বিএনপির সমর্থন নিয়ে চট্টগ্রামের মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন মনজুর আলম। মেয়র হওয়ার পর মনজুরকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও তাকে দলীয় কর্মসূচি ও সরকারবিরোধী আন্দোলনে তেমন দেখা যেত না। এছাড়াও কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ফারুক আলম সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।

গাইবান্ধা-৫ আসনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছিলেন। দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন না পাওয়ার বিষয়টি আগেভাগেই টের পান তিনি। তাই নৌকা ছেড়ে চলে গেছেন ধানের শীষে। এখন তিনি এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়বেন।

২০ দলীয় জোটের শরিক ছিলেন ন্যাপের জেবেল রহমান গানি। রাজনৈতিক কারণে ২০ দলের প্রধান শরিক বিএনপির সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় জোট ত্যাগ করে যুক্তফ্রন্টে যোগ দিয়েছেন। এনডিপি চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মর্তুজাও ছিলেন ২০ দলীয় জোটে। তিনিও এসেছেন যুক্তফ্রন্টে। বিএলডিপির চেয়ারম্যান নাজিমউদ্দিন আল আজাদও ২০ দলীয় জোট ছেড়ে যোগ দিয়েছেন যুক্তফ্রন্টে। শুধু এই নেতারাই নন, এর বাইরেও বিভিন্ন জেলাতে এমন ‘ডিগবাজি’ অবাক করছে ভোটারদের।

গত এক দশক নৌকায় চড়ে দাপটের সাথে যারা স্থানীয় রাজনীতি করেছেন, ভোল পাল্টে ধানের শীষের গোছা হাতে এমন নেতাদেরও দেখা যাচ্ছে। আবার ধান নিয়ে যিনি ব্যস্ত ছিলেন, এমন অনেকেই ভিড়ছেন নৌকা বা লাঙ্গলে।

এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক আফসান চৌধুরী বলেন, আমাদের দেশে ক্ষমতাই মূল লক্ষ্য। দেশে রাজনীতি আদর্শভিত্তিক না। এটা নিয়ে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। রাজনীতি একটি বিশেষ শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ। তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক দলে আদর্শ বাস্তবায়নে যে ধরণের কাঠামো থাকে, সেটা আমাদের দেশে নাই। শুধু আমাদের নয়, বেশির ভাগ দেশেই নেই। সাধারণত যে শ্রেণি থেকে তারা ক্ষমতাটা পায় তাদের স্বার্থই রক্ষা করে থাকে দলগুলো।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *