ক্রীড়া ডেস্ক : সময়টা এখন তার অন্যরকম। প্রশংসার পাশে নিন্দাটাও এখন সঙ্গী। বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাসটিক এমন একটি সময়েই আছেন বর্তমানে। আর এটাই সত্যি। এটা তিনি বোঝেন ঠিকই। তাই মাঠের কাজটা একশোতে একশো সেড়ে ফেলাটাই শ্রেয় টাইগার বসের জন্য। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে তিনি ছিলেন উজ্জ্বল। তার বিভায় জ্বলেছে বাংলাদেশ কিন্তু পুড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
৯ ডিসেম্বর বুধবার মাশরাফি বিন মুর্তজার মাইলফলকের ম্যাচে জয়ে সিরিজ শুরু হয় টাইগারদের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৫ উইকেটের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ দল।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাশরাফির স্মরণীয় ২০০তম ওয়ানডে ম্যাচে জয় পেয়েছে টাইগাররা। প্রথম বলে বাউন্ডারি ও শেষ বলে ছক্কা হজম করে নিজের ১০ ওভার শেষ করার তথ্য ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডের মাশরাফিকে বোঝাতে পারছে না একটুও। বাউন্ডারির মারে শুরুর পরও তাঁর প্রথম স্পেলই সেটি বোঝাতে যথেষ্ট : ৭-০-১৪-২। দ্বিতীয় স্পেলের প্রথম বলে ক্যারিবীয় অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েলকেও তুলে নেওয়া মাশরাফি ৩০ রান খরচায় ৩ উইকেট নেওয়ার পথে ডট বলও করেছেন ৪১টি। ক্যারিবীয়দের দুই শর কমে আটকে ফেলা বোলিংয়ের পর তাই বাংলাদেশ অধিনায়কের ম্যাচসেরা হওয়া নিয়েও ছিল না সামান্যতম সংশয়।
এদিন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩১তম ফিফটি তুলে নেন মুশফিক। ক্যারিয়ারের ১৯৬তম ম্যাচে রোববার মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ জয়ী ইনিংস খেলেন মুশফিক। তার ব্যাটে ভর করে মামুলি স্কোর তাড়া করতে নেমে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।
এদিন খেলতে নামার আগে ওয়ানডে ক্রিকেটে ১৯৫ ম্যাচে ৬টি সেঞ্চুরি এবং ৩০টি ফিফটির সাহায্যে ৫ হাজার ২১৩ রান করেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।
মাঝারি লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতে তিন বল আগে-পরে তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের আউট খানিকটা ধাক্কা হয়ে এসেছিল বাংলাদেশের ইনিংসে। সেই ধাক্কা স্বাগতিকরা সামলে ওঠে লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিমের চওড়া ব্যাটে। ইনজুরি থেকে সেরে উঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা তামিম ইকবাল শুরুটা করেছিলেন ভালো। কিন্তু ২৪ বলে ১২ রান করে স্পিনার বিশুর বলে পয়েন্টে চেজকে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তামিম। পরের ওভারে তাকে অনুসরণ করেন ইমরুল (৪)। আগের বলে থমাসকে চার মারা ইমরুল পরাস্ত হন গতিতে। বোল্ড হয়ে ফেরেন এই ওয়ানডাউন ব্যাটসম্যান। বাংলাদেশ তখন ২/৪২।
এরপর লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিম স্বাগতিকদের নিয়ে যান ৮৯ রান পর্যন্ত। ৫৭ বলে ৪১ রান করে নিজের উইকেট ছুড়ে দিয়ে আসেন লিটন। চতুর্থ উইকেটে মুশফিক ও সাকিব আল হাসানের ৫৭ রানের জুটিতে ম্যাচের ফল নিয়ে সব সংশয় মুছে যায়। সাকিব ২৬ বলে ৩০ ও সৌম্য সরকার ১৩ বলে ১৯ রান করে সাজঘরের পথ ধরলেও মুশফিক ছিলেন অবিচল। ক্যারিয়ারের ৩১তম ওয়ানডে ফিফটি তুলে নেয়ার পর মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে দলকে জয়ের ঠিকানায় পৌঁছে দেন মুশফিক। ৭০ বলে পাঁচ চারে তিনি অপরাজিত থাকেন ৫৫ রানে। মাহমুদউল্লাহ করেন ২১ বলে অপরাজিত ১৪।
রোববার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই সময়ের ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৯৫/৯ রানে গুটিয়ে যায় উইন্ডিজ।
দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেন ওপেনার শাই হোপ। এছাড়া ২৮ বলে ৩৬ রান করেন কিমো পাওয়েল। ৩২ রান করেন রোস্টন চেজ। বাংলাদেশ দলের হয়ে মাশরাফি বিন মুর্তজা ও মোস্তাফিজুর রহমান তিনটি করে উইকেট নেন। এছাড়া একটি করে উইকেট ভাগাভাগি করেন মেহেদী হাসান মিরাজ, সাকিব আল হাসান ও রুবেল হোসেন।


