ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলে বাঙময় যিনি
আমি সূর্য দেখেছি উদয়াচল রাঙিয়ে দেয় অনিন্দ্য অরুণিম রঙে
আমাদের হৃদয় পাড়ায় তিনি সকালের রাঙা রবির মত আলো ছড়ান আদিগন্ত আসমুদ্র হিমাচল
কালবোশেখির ঝড় বদলে দেয় স্থির নিসর্গ
নৈসর্গিক সৌন্দর্যের প্রতীক অনন্য এ সত্তায় তার অধিক দার্ঢ্য দেখেছি দুর্যোগ মুহূর্তে
স্বীয় মনের রঙে রচনা করেন ভিন্নতর জগৎ
বহু বিবর্তন আসে ধরাপৃষ্ঠে কালে কালান্তরে
স্পষ্ট পদরেখা এঁকে যান তিনি কালের ধুলার উপর
ভরা বসন্তের বিকাশ তার পত্র পল্লব শাখে
এমন উদ্ভাসিত মুখচ্ছবি
এই শঙ্কামুক্ত বুক
পাহাড়ের এই দৃঢ়তা এবং তার
আকাশ সমান ঔদার্য ভাবনার অলিন্দে আনে মহা ঘোর
পরম তন্ময়তায় ঐ দীপ্ত চোখে অবলোকন করি গভীরতর এক দৃষ্টি
অতল তল থেকে যিনি তোলেন মুক্তরাজি
বিস্ময়ের আবেশে আচ্ছন্ন হই প্রতিদিন নতুন করে
একটি জীবন এভাবেই সহস্র কোটি জীবনের প্রদীপ হয়ে যায়
ছাপপান্ন হাজার বর্গ মাইলে বাঙময় হয়ে থাকেন তিনি বিরাট সত্তার প্রসার ঘটিয়ে
তার ভেতর আমি দেখেছি এক সম্পূর্ণ বাংলাদেশ
হাজার ঝঞ্জায়ও আমাদের বুকে স্বপ্নের বীজ বুনে যান আমাদের অজান্তেই
আজও তোমরা তাকে নিয়ে চায়ের আড্ডায় প্রকাশ করছ দ্বিধা
যিশু খৃষ্টের ন্যায় শূলিতে চড়ানোর পরিকল্পনা হচ্ছে আধার পাড়ায়
চামচিকাদের বলব চেচাও ইচ্ছা মত
সাহসের সঙ্গে তবু উচ্চারণ করব সত্য
সহস্র বছর বাঙালির তপস্যায় একজন ফরীদ মাসঊদ জন্মায়।
যদি যায় যাক প্রাণ
আমার এ তুচ্ছ প্রাণ
মহিসুরের টিপুর মত বড় করে বলি না -সিংহের মত এক দিন বেচে থাকার কথা
তবু যদি নিজেকে নিঃশেষ করি আর পৃথিবীতে সাগর তীরে সূর্যোদয়ের মত নেমে আসে শান্তি
অবলীলায় বিলিয়ে দিব হাজারটা জীবন
আমি আমাকে নিয়ে ভাবি না এ দুঃসহ সময়ে
কেবল কল্পনার চোখে দেখি পৃথিবীর আকাশ থেকে দূর হয়ে গেছে রাতের নিকষ কালো ছায়া
কখনও বুকটা বিরাট হয় ভরাট ঔদার্য আর মনোরম প্রশস্ততায়
মনে হয় আমারও শক্তি আছে মানুষের জন্য কিছু করার
ফুলের পাপড়ি হয়ে নিজেকে মেলে ধরতে পারি ইচ্ছে হলে
উগ্র চিন্তার আগুনে পুড়ে যাচ্ছে এই সময়ের কোমল সব ভাবনা
এর ভেতর একটি শিশির বিন্দু সকালের দুর্বা ঘাসে পড়ে থাকে নিরিবিলি নিশ্চুপ
একটি নতুন পাতায় নিঃশব্দ কুয়াশা পড়ে
পৃথিবীর এক প্রান্তে কোন এক চোখের কোণে জমে ঈশদুষ্ণ অশ্রু বিন্দু
ঔদাসিন্যে শক্তির মহড়াগুলির দিকে তাকাই
ব্যস্ত নগরের ঘটনাপঞ্জিতে চোখ রাখার ফুরসত নেই
হৃদয়পুরের অভ্যন্তরে অটুট সঙ্কল্পের মাহাত্ম নিয়ে নিমগ্ন আছি আগামী ভোর নাগাদ
অবসর হলে আমাকে আবারও অন্তর তলে খুজতে হবে আমার অন্তরের চিরন্তন সত্যগুলো
একান্ত বাসনাগুলো নিশ্চিন্ত সময়ে হঠাত উকি দেয় নীরবে নিভৃতে
একলা রাতে মৃত্যুকে ভাবতে চাই
আমাদের সামনে মৃত্যুহীন বিপ্লবী জীবন ভেসে ওঠে
সব ভীতির বরফ দু হাতে সরিয়ে দেই
দুর্বা ঘাস থেকে শিশির বিন্দুতে ঠোট সিক্ত করি এই বিস্ময়কর শীত সকালে
মনে হয় বুকের ভেতর একটি সৌরালোক উদ্ভাসিত করে দেয় আধারে আচ্ছন্ন বহু বালিয়াড়ি বহু বন এবং অনেক সংকটময় সুদীর্ঘ সময়ের পথপ্রান্তর।


