পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম (অনলাইন ডেস্ক) : জাতীয় একাদশ নির্বাচনে এবারই প্রথম সবচেয়ে বেশি দল অংশগ্রহণ করছে। আশার প্রদীপ জ¦লে উঠেছে এতে। শান্তিপূর্ণ এই নির্বাচনী আমেজ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও হাওয়া বদল করতে সমর্থ হয়েছে। বিশ^ব্যাপী এর রঙ ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ শান্তিপ্রিয়। আমরা সবসময় শান্তির আহ্বান জানাই।
ইতিবাচক রাজনীতি হোক মানুষের জন্য। কখনোই সংঘাত ও সংঘর্ষ আমরা চাই না। অশান্তি সৃষ্টি করে মানুষের কল্যাণ কখনো করা যায় না। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল রোববার। প্রধান দুই জোটের আসন বণ্টন প্রায় চূড়ান্ত। এরপর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। প্রকৃতপক্ষে সোমবার থেকেই শুরু হচ্ছে আসল নির্বাচনী প্রতিযোগিতা। কোন আসনে কারা কারা প্রার্থী, তা কালই স্পষ্ট হয়ে যাবে ভোটারদের কাছে। কিন্তু সব কিছু খুব মসৃণভাবে চলবে, এমনটা নয়। মনোনয়ন পাননি যাঁরা, তাঁদের অনেকের মধ্যে এবং তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। শনিবার তেমন কিছু দৃষ্টান্ত দেখা গেছে।
দলীয় অফিসের সামনে অনেককে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে দেখা গেছে। অনেকে চোখের জলও ফেলেছেন। আবার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা মাঠে নামলেও অনেক অবাঞ্ছিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। নির্বাচন কমিশনও বিষয়গুলো জানে। তাই তারা সব কিছু সুন্দরভাবে সামাল দিয়ে জাতিকে একটি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেবে- এমনটাই আশা করে মানুষ।
ইতোমধ্যেই হবিগঞ্জ চারে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের বাচ্চুকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে স্থানীয় বিএনপি নেতারা। এর আগেও তার গাড়ি বহরে পাথর মারার রেকর্ড আছে। ভবিষ্যৎই বলে দেবে তিনি আসলে কতটুকু নিরাপদভাবে নির্বাচন করতে পারবেন। আমরা চাই, অশান্তি নয়, শান্তি। কাদা ছোড়াছুড়ি নয় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নির্বাচনে অংশ নিক সবাই।
দলমত নির্বিশেষে সব মানুষের মধ্যে ফিরে আসুক নির্বাচনী আমেজ। সরগরম নির্বাচনী হাওয়া যেন কারও জীবনের জন্য বিপদের কারণ না হয়। বিগত নির্বাচনে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট অংশ নেয়নি। ফলে সেই নির্বাচন স্বাভাবিকতা হারিয়েছিল তা সত্য। দেশব্যাপী ব্যাপক সংঘাত-সংঘর্ষ হয়েছিল। এবারের নির্বাচনে সব দল অংশ নেওয়ায় মানুষ খুশি। তাদের প্রত্যাশা, শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মানুষ নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ভোট দিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের যেমন দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি দায়িত্ব রয়েছে দলগুলোরও।
সবারই মনে রাখা উচিত, শুধু নির্বাচনে জয়-পরাজয় নয়, দেশের কল্যাণ সাধনই রাজনীতির মূল লক্ষ্য। বৈশ্বিক নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। এগিয়ে চলার এই গতি ধরে রাখতে হবে। শান্তিপূর্ণ অবস্থান ধরে রাখার জন্য সবাইকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে।


