নিজেকে ট্রাম্পকন্যা দাবি করছেন পাকিস্তানি তরুণী!

নিজেকে ট্রাম্পকন্যা দাবি করছেন পাকিস্তানি তরুণী!

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ব্যক্তিগত জীবন থেকে নিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়! কোথায় সমালোচনা তৈরী করেননি ট্রাম্প। বছরজুড়েই নানা কারণে আলাচনায় থাকেন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার যতটা না রাষ্ট্রীয়। তারচেয়ে বেশী অধিকাংশই ব্যক্তিগত। তাই দুর্নাম, অঘটন আর ট্রাম্প যেন সমার্থক। একের পর এক অঘটন জন্ম দেয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবার পড়েছেন নতুন ঝামেলায়।

লাহোরের বাসিন্দা আম্মারা মাজহার নামে এক তরুণীর দাবি তিনি নাকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে। তবে কোনো পালিত বা অবৈধ কন্যা নয়। ট্রাম্পের স্ত্রী ইভানা ট্রাম্পের গর্ভজাত সন্তান। পাকিস্তান ও ভারতের একাধিক গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

আম্মারা মাজহারের দাবি-তিনি আমেরিকাতেই জন্মেছেন এবং ওই দেশেই কেটেছে তার শৈশব।

ওই তরুণী আরও দাবি করেন-তাকে অপহরণ করে পাকিস্তানে নিয়ে আসা হয়েছে। তারপর থেকে লাহোরে রয়েছেন তিনি। নিজের প্রতি সুবিচার পেতে এবং নিজের দেশ আমেরিকায় ফিরে যাওয়ার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন আম্মারা মাজহার।

তবে এই বিষয়ে আম্মারা মাজহার দুই রকম তথ্য দিয়েছেন। তিনি একবার বলেছেন, ন্যাটো বাহিনীর সাথে ঘুরতে ঘুরতে চলে ট্রাম্পের সাথে এসেছিলেন। পরে ট্রাম্প তাকে ফেলে গিয়েছিলেন। আবার দাবি করেছেন, আমেরিকাতেই তিনি জন্মেছিলেন। সেখানেই তার শৈশব কেটেছে। তাকে অপহরণ করে পাকিস্তানে নিয়ে আসা হয়। তারপর থেকে লাহোরে রয়েছেন তিনি।

তাই নিজের প্রতি সুবিচার পেতে আবেদন করেছেন লাহোর হাইকোর্টে। প্রয়োজনে পাকিস্তানের সুপ্রিমকোর্টেও যাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

আম্মারা মাজহার বলেছেন, ‘আমার মা ইভানা (ট্রাম্পের প্রথম স্ত্রী) আমার প্রতি খুব উদাসীন ছিলেন। এ নিয়ে বাবা আমার মা’কে বকাবকি করতেন। মায়ের উদাসীনতার কারণেই আমায় অপহরণ করতে সক্ষম হয় অপহরণকারীরা।’

তবে পাকিস্তানের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, ‘মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ার কারণেই ভুল বকছেন ওই নারী। তার মস্তিষ্ক পাকিস্তানের বাইরে নানা জায়গায় ঘুরছে। সেখানে অনেক ভাবনা-চিন্তা রয়েছে যেগুলির মধ্যে কোনও মিল নেই। তেমনই একটি মায়া হচ্ছে তার বাবা ডোনাল্ড ট্রাম্প।’

এখন পর্যন্ত তিনটি বিয়ে করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইভানা ট্রাম্প তার প্রথম স্ত্রী। তার সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি সময় দাম্পত্য জীবন কাটিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

১৯৭৭ সালে বিয়ে হয় ডোনাল্ড ও ইভানা ট্রাম্পের। ১৯৯২ সালে ভেঙে যায় দেড় দশকের দাম্পত্য। ১৯৯৩ সালে মারলা মাপেলস নামে এক নারীকে বিয়ে করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

১৯৯৯ সালে ট্রাম্পের দ্বিতীয় বিয়েও ভেঙে যায়। ২০০৫ সালে জনপ্রিয় মডেল মেলানিয়াকে বিয়ে করেন ডোনাল্ড। এখনও পর্যন্ত তাকে নিয়েই আছেন।
আম্মারা মাজহারের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে মামলা গ্রহণ করেছেন লাহোর হাইকোর্ট। তবে পাকিস্তানের এক চিকিৎসক ওই তরুণীর দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন। তার কথায়-মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ার কারণেই ভুল বকছেন ওই তরুণী।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *