ক্রীড়া ডেস্ক : দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জয়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৫৬ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। টস হেরে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ওভার শেষে ৭ উইকেটে ২৫৫ রান করে স্বাগতিকরা। হাফসেঞ্চুরি করেন সাকিব, মুশফিক ও তামিম।
মঙ্গলবার দুপুরে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টস হেরে সূচনালগ্নেই ধাক্কা খেয়েছিল বাংলাদেশ। ইনিংসের শুরুতে পায়ে আঘাত পেয়ে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন লিটন। এরপর ক্রিজে এসেই ফেরেন ইমরুল। পরে দলকে টানেন তামিম- মুশফিক। দুজনই ফিফটি করে সেঞ্চুরি জুটির রেকর্ড গড়ে ফিরলে দলের হাল ধরেন সাকিব। তাকে সঙ্গ দেন মাহমুদউল্লাহ। মিস্টার কুল ফিরলেও ফিফটি তুলে নেন সাকিব। এরপর কেউ জ্বলে উঠতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত তিন ফিফটিতে ৩ ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ২৫৫ রানের সংগ্রহ পেয়েছে টাইগাররা।
পেসার ওশান টমাসের একটি ইয়র্কার ফ্লিক করতে গিয়ে ঠিকমতো খেলতে পারেননি লিটন। বল তার ডান পায়ের গোড়ালির উপরে লাগে। এরপর কোনোভাবে এক রান নিয়ে নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তে শুয়ে পড়েন তিনি। ফিজিও মাঠে এসে প্রাথমিক চিকিৎসা দিলেও সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেননি লিটন। শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত ৫ রানের মাথায়ই স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন তিনি।
সেই পরিস্থিতিতে ক্রিজে আসেন ইমরুল কায়েস। তবে সাম্প্রতিক ফর্মের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি তিনি। ওশানের অফস্টাম্পের বাইরের বল ব্যাটের কানায় লাগিয়ে উইকেটের পেছনে শাই হোপকে ক্যাচ দিয়ে আসেন। ফেরার আগে রানের খাতায় খুলতে পারেননি এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
পরে মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ওঠেন তামিম ইকবাল। ধীরে ধীরে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন তারা। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে দারুণ মেলবন্ধন গড়ে ওঠে। দুজনই ব্যাটে ছোটান স্ট্রোকের ফুলঝুরি। উভয়ই ফিফটি তুলে প্রতিপক্ষ শিবিরে চোখ রাঙাতে থাকেন। এতে দুরন্ত গতিতে ছুটতে থাকে বাংলাদেশ।
তবে হাফসেঞ্চুরির পরপরই দলীয় ১২৫ রানে দেবেন্দ্র বিষুর বলে কেমার রোচের হাতে ক্যাচ দিয়ে তামিম ফিরে যান। দলীয় স্কোরে আর মাত্র ৭ রান যোগ হতেই ওশান টমাসের বলে উইকেটরক্ষক শাই হোপের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন মুশফিক। আউট হওয়ার আগে ৮০ বল থেকে ৬২ রান করেন মুশফিক।
দুই সেট ব্যাটসম্যান আউট হওয়ার পর চতুর্থ উইকেটে জুটি বাঁধেন সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ। মাহমুদউল্লাহকে আউট করে সেই জুটি ভেঙে দেন রোভম্যান পাওয়েল। আউট হওয়ার আগে তিনি করেন ৩০ রান।
এরপর ৪৬ রানের মধ্যে আরো তিন উইকেট হারায় বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহর পর আউট হন সৌম্য। দ্বিতীয়বার ব্যাট করতে এসে সুবিধা করতে পারেননি লিটনও (৮)। আর শেষ পর্যন্ত ইনিংস সর্বোচ্চ ৬৫ রান করা সাকিবও আউট হয়ে যান। ৪৭তম ওভারের শেষ বলে সাকিব আউট হওয়ার পর বাকি তিন ওভারে ১৬ রান আসে। শেষ পর্যন্ত মিরাজ ১০ ও মাশরাফি ৬ রানে অপরাজিত থাকেন।
ক্যারিবীয় বোলারদের মধ্যে ওশান টমাস তিনটি উইকেট নেন। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে বাংলাদেশ পাঁচ উইকেটে জয় পেয়েছে। তাই এই ম্যাচ জিততে পারলে সিরিজ নিশ্চিত হয়ে যাবে টাইগারদের।


