পাথেয় রিপোর্ট : জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বুধবার (১২ ডিসেম্বর) সিলেট যাবেন। সিলেট পথসভার মধ্য দিয়ে ঐক্যফ্রন্টের জ্যেষ্ঠ নেতারা একাদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করবেন ।
বুধবার হজরত শাহপরান (র) ও শাহজালালের (র) মাজার এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীর কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে এ প্রচার শুরু হবে। সিলেটে তিনটি পথসভায় ধানের শীষে ভোট চেয়ে বক্তব্য দেবেন ড. কামাল হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আ স ম আবদুর রব, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, মাহমুদুর রহমান মান্না। কর্নেল (অব) অলি আহমেদসহ ২০-দলীয় জোট নেতাদেরও এতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
ঐক্যফ্রন্টের মিডিয়া ও প্রচার সেলের পক্ষ থেকে এ খবর জানা গেছে। অারো জানা গেছে, ড. কামাল হোসেন কাল দুপুরের ফ্লাইটে সিলেট যাবেন। সেখানে বেলা তিনটার পরে মাজার জিয়ারত করে পথসভায় অংশ নেবেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান প্জানান, কামাল হোসেনের সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বেলা দেড়টার ফ্লাইটে সিলেট যাবেন।
আগের নির্বাচনগুলোতে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হতো দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সিলেট মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে। কিন্তু এবার তিনি দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাবন্দী। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেন এবার মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচার শুরু করবেন।
তবে ঐক্যফ্রন্ট সূত্র জানায়, শারীরিক অসুস্থতার কারণে ড. কামাল হোসেন সিলেটের পর অন্য প্রচার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নাও পারেন। তিনি ঢাকা মহানগরীর নির্বাচনী এলাকার প্রচারে নিয়মিত থাকবেন। এ ছাড়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বগুড়া-৬ ও ঠাকুরগাঁও-১ থেকে নির্বাচন করছেন, তাই তিনিও হয়তো নিয়মিত সময় দিতে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে ঢাকার বাইরে বেশি কাজে লাগানো হবে আ স ম আবদুর রব, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, কর্নেল (অব) অলি আহমদ, মাহমুদুর রহমান মান্নার মতো মাঠ কাঁপানো বক্তাদের। বিএনপি সূত্র জানায়, নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায়সহ সিনিয়র নেতাদেরও দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রচারে পাঠানো হবে। এ নেতাদের প্রচারে পাঠানোর আরেকটি উদ্দেশ্য রয়েছে দলটির, তা হচ্ছে কোথাও কোনো মান-অভিমান থাকলে তা মিটিয়ে দেওয়া।
এদিকে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির কাজও প্রায় শেষ। ইতোমধ্যে খসড়া চূড়ান্ত করেছে এ সংক্রান্ত কমিটি। নেতারা জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট পৃথক দুটি ইশতেহার তৈরি করছে। এর মধ্যে আগামী ১৭ ডিসেম্বর ইশতেহার ঘোষণা করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আর পরের দিন, অর্থাৎ ১৮ ডিসেম্বর বিএনপি ঘোষণা করবে দলীয় ইশতেহার।


