ক্রীড়া ডেস্ক : মিরপুরে চলতি সিরিজের প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে যেভাবে বলে কয়ে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। আজকে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়টা এমন না হলেও জয় তো জয়ই। কিন্তু জিতলেই ট্রফি নিশ্চিত। এমন সমীকরণের ম্যাচে হেরে গেল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তবে মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বাধীন দলকে ৪ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে (১-১) সমতায় ফিরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগামী শুক্রবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।
সিরিজ শুরু হওয়ার আগেই সবার কণ্ঠে এক প্রশ্ন, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ধবল ধোলাই করবে বাংলাদেশ? বিনয়ের সঙ্গে এ প্রশ্নের উত্তরে ‘ম্যাচ বাই ম্যাচ’ এগোনোর কথা বলেছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। প্রথম ম্যাচ শেষ হতে না হতেই আবার আওয়াজ উঠল, দ্বিতীয় ম্যাচেই কি সিরিজ নির্ধারণ হয়ে যাবে? সিলেটের শেষ ওয়ানডে তখন পরিণত হবে ‘ডেড রাবারে’। ধবল ধোলাই হবে কি হবে না এ নিয়ে প্রশ্ন থাকবে কিন্তু সিরিজের ফলে এর কোনো প্রভাব থাকবে না। মিরপুরের দ্বিতীয় ম্যাচ শেষে এমন সব প্রশ্নই এখন হাস্যকর ঠেকছে। শাই হোপের ১৪৬ রানের অসাধারণ এক ইনিংসে বাংলাদেশকে ৪ উইকেটে হারিয়ে দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সিরিজের মীমাংসা এখন হবে শুক্রবারে, সিলেটের ছবির মতো মাঠে।
মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে স্বাগতিক বাংলাদেশ দলকে প্রথমে ব্যাটিং পাঠায় উইন্ডিজ। প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ ২৫৫ রান করার পর স্বাগতিক দলকেই এগিয়ে রাখা হচ্ছিল। প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই শ করতে না পারার ব্যর্থতা এর একটি কারণ, বাংলাদেশের বোলারদের দুর্দান্ত ফর্মও আরেকটি কারণ। তবে সিরিজের আগে মিরপুরের উইকেটে জয়ের জন্য আড়াই শ পার করা স্কোরই যথেষ্ট। মাত্র দ্বিতীয় ওভারেই হেমরাজকে এলবিডব্লু করে মেহেদী হাসান মিরাজ সে ইঙ্গিতই দিলেন। কিন্তু প্রথম ম্যাচের মতো হুড়মুড় করে আজ আর ভেঙে পড়েনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। একপ্রান্তে স্বতঃস্ফূর্ত ব্যাট করেছেন শাই হোপ। অন্যপ্রান্তে ড্যারেন ব্রাভো কিংবা মারলন স্যামুয়েলসরা কচ্ছপগতিতে রান তুললেও অন্তত প্রয়োজনীয় সঙ্গ দিতে পেরেছেন। ওতেই ৩০ ওভার পেরোনোর আগেই ১৩০ পেরিয়েছে উইন্ডিজ।
এর পর ২৫ রানের মধ্যে দ্রুত তিন উইকেট তুলে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। কিন্তু হোপকেই আউট করা যাচ্ছিল না। সেই হোপই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সিরিজ মীমাংসার আশা শেষ করে দিলেন।
তবে যাইোক এখন পর্যন্ত সমতায় দুই দলই। সিরিজ জিততে সিলেটের ম্যাচ জিততে হবে যে কোন এক দলকে। এই সমীকরণে শেষ ম্যাচটা টান টান উত্তেজনার যে হবে এ আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বাংলাদেশ যে করেই হোক সিরিজটা জিততে চাইবে। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শেষ কামড়টাই দিতে চাইবে বাংলাদেশকে। কারণ টেস্ট সিরিজে দুই ম্যাচ হেরে বাংলাদেশের কাছে টেস্ট হোয়াইট ওয়াশের লজ্জাটা এখনো তাদের কাঁধেই। তাই যে করেই হোক ওয়ানডে সিরিজ জিতে সে লজ্জাই ঘুচতে চাইবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।


