পাথেয় টোয়েন্টিপোর ডটকম : ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে ৭ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরো ৭০ জন। জানা যায়, আহতদের মধ্য থেকে ৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ করা হয়েছে নিহত প্রত্যেকেরই মাথা ও বুকে গুলি চালানো হয়। কাশ্মীরের ডিভিশনাল কমিশনারকে পুলওয়ামার ঘটনা নিয়ে তদন্তের আদেশ দিয়েছেন রাজ্যপাল। সেইসঙ্গে সংঘর্ষস্থলে না আসতে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুরোধ করেছেন তিনি।
বেসারমকির ব্যক্তি হত্যার ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, স্থানীয়রা বিক্ষোভ করছিল এবং তারা সেনাবাহিনীর গাড়িতে উঠে পড়ার চেষ্টা করলে বাধ্য হয়ে গুলি চালানো হয়।
পুলিশ দাবি করেছে, ১৭ ডিসেম্বর সোমবার ভোরে পুলওয়ামার সিরনু গ্রামে জঙ্গিদের উপস্থিতির খবর পেয়ে অভিযানে নামে যৌথ বাহিনী। তল্লাশির সময়ে জঙ্গিরা গুলি ছুঁড়লে সংঘর্ষ শুরু হয়। অভিযানের পরে স্থানীয়রা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়তে শুরু করে। এসময় বিক্ষোভকারীরা সেনাবাহিনীর গাড়িতে উঠে পড়ার চেষ্টা করলে প্রথমে ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। তাতে বিক্ষোভকারীরা নিবৃত না হওয়ায় নিরাপত্তাবাহিনী গুলি চালাতে বাধ্য হয় বলে জানায় পুলিশ।
এ ঘটনার প্রতিবাদে কাশ্মীরের ওই এলাকায় চার দিনের হরতাল ডেকেছে প্রতিবাদকারীরা। পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতিও ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কোনো দেশ তার নাগরিকদের হত্যা করে লড়াইয়ে জিততে পারে না। রাজ্যপালের প্রশাসন সাধারণ মানুষের প্রাণরক্ষা করতে পুরোপুরি ব্যর্থ।
এর আগে ১৫ ডিসেম্বর শনিবার ভোরে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বন্দুকযুদ্ধে এক সেনাসহ ৮ জন নিহত হয়েছে বলে জানা যায়। নিহত ৭ জন হলেন বেসামরিক লোক। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পুলওয়ামা জেলায় একটি ফলের বাগানে তিন বিচ্ছিন্নতাবাদী লুকিয়ে আছে- এই খবর পাওয়ার পর শনিবার ভোরে সেখানে অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ জানায়, যৌথভাবে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সিআরপিএফ এর সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়।
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে ৭ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরো ৭০ জন।


