আবােরা সুনামিতে বিধ্বস্ত ইন্দোনেশিয়া, নিহত ৪৩ আহত ৬০০

আবােরা সুনামিতে বিধ্বস্ত ইন্দোনেশিয়া, নিহত ৪৩ আহত ৬০০

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আবােরা ইন্দোনেশিয়িয়ায় আঘাত হানলো ভয়াবহ সুনামি। সুনামির কবলে বিধ্বস্ত দেশটির জাভা ও সুমাত্রার মধ্যবর্তী সুন্দা স্ট্রেট।
জাভা ও সুমাত্রার মধ্যবর্তী সুন্দা স্ট্রেট উপকূলে সুনামির এ আঘাতে কমপক্ষে ৪৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৬০০ জন।
ইন্দোনেশিয়ার সরকারি তথ্যের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি অনলাইন।

এ যেন আবারও সেই ডিসেম্বর৷ ১৪ বছর আগে ডিসেম্বর মাসের ২৬ তারিখ ভয়াবহ সুনামিতে বিধ্বস্ত হয়ে যায় ইন্দোনেশিয়া৷ এবার ২২ ডিসেম্বর রাতে ইন্দোনেশিয়ার সুন্দা স্ট্রেট উপকূল অঞ্চলে আছড়ে পড়ল সুনামি৷

সুনামির কারণ ক্র্যাকাটোয়া আগ্নেয়গিরি৷ প্রবল অগ্ন্যুৎপাতের জেরে সুনামি আছড়ে পড়ে জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মাঝে অবস্থিত সুন্দা স্ট্রেটে৷ বিপর্যয় বাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছে, শনিবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৪০ মিনিটে সুনামির তাণ্ডব শুরু হয়৷ তার জেরে একের পর বাড়ি ভেঙে পড়তে শুরু করে৷ শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী ৪৩ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে৷ আহত ৬০০৷ অনেকে নিখোঁজ আছেন। সুনামির আঘাতে শত শত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে প্যানদেগ্ল্যাং, দক্ষিণ লাম্পাং ও সেরাং এলাকায়।

মৃত মানুষের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা। পূর্ণিমার কারণে সাগর আরও ফুঁসে উঠতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। সংস্থার মুখপাত্র সুতোপো পুরও নুগ্রহ সুনামির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা, ভেসে যাওয়া সড়ক, গাড়ির ছবি পোস্ট করেছেন টুইটারে।

প্রত্যক্ষদর্শী নরওয়ের আগ্নেয়গিরিবিষয়ক আলোকচিত্রী ওয়েস্টিন লান্ড অ্যান্ডারসন বিবিসি ওয়ার্ল্ডকে জানান, সুনামির সময় পশ্চিম জাভার আনিয়ার সৈকতে ছিলেন তিনি। ওয়েস্টিন বলেন, ‘আমি সৈকতে একা ছিলাম। আমার পরিবারের লোকজন হোটেলের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিল। আমি ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের দৃশ্য তোলার চেষ্টা করছিলাম। এর আগের দিন সন্ধ্যায় ভারী অগ্ন্যুৎপাত হচ্ছিল।’ তিনি জানান, ঘটনার সময় বড় ঢেউয়ের আঘাতে অগ্ন্যুৎপাত বন্ধ হয়ে যায়, চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়। হঠাৎ তিনি দেখতে পান বড় ঢেউ তেড়ে আসছে। তিনি দৌড়ে পালান। শুধু দুটো ঢেউ আসে। প্রথম ঢেউটি শক্তিশালী না হওয়ায় তিনি পালিয়ে হোটেল কক্ষে চলে আসতে পারেন। শক্তিশালী দ্বিতীয় ঢেউটি হোটেলের ওপর দিয়ে উঠে যায়। রাস্তায় থাকা গাড়িগুলোকে ভাসিয়ে নেয়। তিনি আরও জানান, হোটেলের সবাই পাশের বনে আশ্রয় নেন। এখনো তাঁরা সেখানে পাহাড়ের ওপরে অবস্থান করছেন।

এর আগে সেপ্টেম্বরে ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্প ও সুনামির আঘাতে দুই হাজারের বেশি মানুষ মারা যান।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হঠাৎ এই প্রবল সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস বা সুনামির কারণ হল ক্র্যাকাটোয়া আগ্নেয়গিরির জেগে ওঠা৷ জানা গিয়েছে, এই আগ্নেয়গিরি থেকে আবারও অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়েছে৷ অনুমান, মাটির তলায় যে প্লেটগুলি থাকে, অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সম্ভবত সেখানে কোনও চাপের সৃষ্টি হয়েছে বা চিড় ধরেছে৷ সেই কারণেই সুনামি আছড়ে পড়েছে সুমাত্রা ও জাভা উপকূলে৷ সুনামি বিধ্বস্তদের সাহায্যার্থে ইতিমধ্যে সেখানে পৌঁছে গিয়েছে ইন্দোনেশিয়া সরকারের বিপর্যয় মোকাবিলা দল৷ বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷ তবে, এখনও অনেক স্থানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না৷ দুর্গতদের সমস্ত রকমের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে সেদেশের সরকার৷

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসেও ভূমিকম্প ও সুনামির সম্মুখীন হয়েছিল ইন্দোনেশিয়া৷ সেবারও মৃত্যু হয়েছিল কয়েক হাজার মানুষের৷ ইন্দোনেশিয়ার উপরে বারবার প্রাকৃতিক বিপর্যয় আছড়ে পড়ার কারণ হল, সেদেশের অবস্থান৷ ভূতত্ত্ববিদদের মতে, ভূমিকম্প ও সুনামিপ্রবণ অঞ্চলের মধ্যে অবস্থান করছে ইন্দোনেশিয়া৷ ফলে বারবারই এই ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হয় তাঁদের৷

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *