পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ভ্যালেন্টাইন’স ডে’ নয়, ‘সিস্টার’স ডে’ (ভালোবাসা দিবস নয় বোন দিবস) হিসেবে পালন করতে হবে! এমনই একটি অদ্ভুত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে পাকিস্তানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে। ফয়জলাবাদের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য জাফর ইকবাল রণধাওয়া এই আদেশ জারি করেছেন বলে জানা গেছে।
ইসলামের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গেছে। এমনকি ওই দিনে মেয়েদের উপহার হিসেবে কী দেওয়া হবে, সেই নির্দেশিকাও দেওয়া হয়েছে ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে। সহ-উপাচার্যসহ বাকি কর্মকর্তাদের মিলিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই দিন মেয়েদের উপহার হিসেবে দেওয়া যেতে পারে ওড়না ও গা’ঢাকা পোশাক। এমনকি পাকিস্তানের সংস্কৃতির কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বোনদের পাকিস্তানের মানুষেরা কতটা ভালোবাসে, সেটা প্রকাশ্যে আনতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। স্বামী-স্ত্রী অথবা প্রেমিক-প্রেমিকাদের মধ্যেকার ভালোবাসার থেকেও ভাই-বোনের সম্পর্ক মহৎ বলে জানানো হয়েছে এই বিজ্ঞপ্তিতে।
তবে এই প্রথম বার নয়, এর আগেও ইসলামাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশিকায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল সমস্ত রকম ভ্যালেন্টাইন’স ডে উদযাপনের ওপরে। সংবাদমাধ্যমের উপরেও ভ্যালেন্টাইন’স ডে-র প্রচারের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। সূত্র- দ্য ডন, আনন্দবাজার
উল্লেখ্য, ২৬৯ সালে ইতালির রোম নগরীতে সেন্ট ভ্যালেইটাইন’স নামে একজন খৃষ্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক ছিলেন। ধর্ম প্রচার-অভিযোগে তৎকালীন রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্রাডিয়াস তাঁকে বন্দী করেন। কারণ তখন রোমান সাম্রাজ্যে খৃষ্টান ধর্ম প্রচার নিষিদ্ধ ছিল। বন্দী অবস্থায় তিনি জনৈক কারারক্ষীর দৃষ্টহীন মেয়েকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলেন। এতে সেন্ট ভ্যালেইটাইনের জনপ্রিয়তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে রাজা তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। সেই দিন ১৪ই ফেব্রুয়ারি ছিল। অতঃপর ৪৯৬ সালে পোপ সেন্ট জেলাসিউও ১ম জুলিয়াস ভ্যালেইটাইন’স স্মরণে ১৪ই ফেব্রুয়ারিকে ভ্যালেন্টাইন’ দিবস ঘোষণা করেন। খৃষ্টানজগতে পাদ্রী-সাধু সন্তানদের স্মরণ ও কর্মের জন্য এ ধরনের অনেক দিবস রয়েছে। যেমন: ২৩ এপ্রিল – সেন্ট জজ ডে, ১১ নভেম্বর – সেন্ট মার্টিন ডে, ২৪ আগস্ট – সেন্ট বার্থোলোমিজম ডে, ১ নভেম্বর – আল সেইন্টম ডে, ৩০ নভেম্বর – সেন্ট এন্ড্রু ডে, ১৭ মার্চ – সেন্ট প্যাট্রিক ডে।
পাশ্চাত্যের ক্ষেত্রে জন্মদিনের উৎসব, ধর্মোৎসব সবক্ষেত্রেই ভোগের বিষয়টি মুখ্য। তাই গির্জা অভ্যন্তরেও মদ্যপানে তারা কসুর করে না। খৃস্টীয় এই ভ্যালেন্টাইন দিবসের চেতনা বিনষ্ট হওয়ায় ১৭৭৬ সালে ফ্রান্স সরকার কর্তৃক ভ্যালেইটাইন উৎসব নিষিদ্ধ করা হয়। ইংল্যান্ডে ক্ষমতাসীন পিউরিটানরাও একসময় প্রশাসনিকভাবে এ দিবস উদযাপন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এছাড়া অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি ও জার্মানিতে বিভিন্ন সময়ে এ দিবস প্রত্যাখ্যাত হয়। সম্প্রতি পাকিস্তানেও ২০১৭ সালে ইসলামবিরোধী হওয়ায় ভ্যালেন্টাইন উৎসব নিষিদ্ধ করে সেদেশের আদালত। বর্তমানকালে, পাশ্চাত্যে এ উৎসব মহাসমারোহে উদযাপন করা হয়। যুক্তরাজ্যে মোট জনসংখ্যার অর্ধেক প্রায় ১০০ কোটি পাউন্ড ব্যয় করে এই ভালোবাসা দিবসের জন্য কার্ড, ফুল, চকোলেট, অন্যান্য উপহারসামগ্রী ও শুভেচ্ছা কার্ড ক্রয় করতে, এবং আনুমানিক প্রায় ২.৫ কোটি শুভেচ্ছা কার্ড আদান-প্রদান করা হয়।


