পাথেয় রিপোর্ট : বাংলাদেশে নতুন করে আর চালের দাম বাড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির পর, বর্ধিত দামেই চলছে চাল কেনাবেচা। ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর পরই বেড়ে যায় চালের দাম। দায়িত্ব নেয়ার পর এমন ঘটনায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার ও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তবে, দ্রুতই ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে, পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন তারা। চালের দাম বৃদ্ধির যৌক্তিক কোনো কারণ নেই উল্লেখ করে, এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণাও দেন তারা। এরপর নতুন করে আর বাড়েনি চালের দাম।
রাজধানীর মিরপুর-৬ নম্বর সেকশন বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, নির্বাচনের আগে চালের দাম কম ছিল। নির্বাচনের পর অনেক বেড়ে যায়। এখন আবার কিছুটা কমতে শুরু করেছে। মিনিকেট ৫০ কেজির বস্তা ২ হাজার ৫৭০ টাকা কিনতে হতো, এখন সেটা ২ হাজার ৫৩০ থেকে ২ হাজার ৫৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে খুচরা পর্যায়ে আটাশ প্রতিকেজি ৩৮-৪০ টাকা, নাজির (ইন্ডিয়ান) প্রতিকেজি ৫৪-৫৬ টাকা, মিনিকেট প্রতিকেজি ৫২-৫৪ টাকা এবং লতা ৪৪-৪৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি দাম কিছুটা কমলেও খুচরা বাজারে তেমন প্রভাব নেই বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
এদিকে, আসছে ইরি-বোরো মৌসুমে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কৃষক পর্যায়ে ধান কেনার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। তিনি বলেন, সরকার ধান-চালের দাম বেঁধে দিয়েছে। মিলাররা যদি সরকারি দরে ধান কিনে এবং গুদামে চাল সরবরাহ করে, তাহলে বাজারে কোন প্রভাব পড়বে না।
শুক্রবার (১৮ জানুয়ারি) নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর খাদ্যগুদাম পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী।
সবশেষ বৃহস্পতিবার বিকেলেও রাজধানীর খাদ্য ভবনে চালকল মালিক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন খাদ্যমন্ত্রী। বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। এ সময়, চালের দাম স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চান দুই মন্ত্রী। তারা বলেন, দেশে কোনো খাদ্য ঘাটতি নেই। সবশেষ মৌসুমে ভালো ফলন হয়েছে। তারপরও কেন চালের দাম বেড়েছে তা বোধগম্য নয়। বেশিরভাগ চাল ব্যবসায়ী উত্তরবঙ্গের। উত্তরবঙ্গের মন্ত্রী হিসেবে আপনাদের কাছে আমাদের দাবি, আপনারা আমাদের ইজ্জত রাখবেন।
এদিকে, বিগত দুই সপ্তাহের তুলনায় রাজধানীর বাজারে স্থিতিশীল রয়েছে সবজি, মাছ-মাংস ও মসলার দাম। সরবরাহ ভাল থাকায় নিয়ন্ত্রণে আছে পেয়াজের দাম। তবে ডালের বাজার বাড়তির দিকে। প্রতিকেজি মসুর ডাল পাওয়া যাচ্ছে ৮৬ টাকায়, আর পুরনো ডালের কেজি মূল্য ১০০ টাকা। মুগ ডালের দাম যথাক্রমে ৯০ ও ১১০ টাকা। ব্যবসায়ীরা জানান, ডালের দাম প্রতিকেজিতে ১০ থেকে ১২ টাকা বেড়েছে।


