মুসাদ্দাদ বিন মুসারহাদ— এর দুটি  কবিতা

মুসাদ্দাদ বিন মুসারহাদ— এর দুটি কবিতা

জননী শেখ হাসিনা

সমস্ত পৃথিবীর চোখ বিস্ময়ে ঘোরে বাঙলার নদী পাহাড় মাঠ ধান জব পাটের ভুই বনাঞ্চল ও শূন্য প্রান্তরগুলি
জাতির জনকের কন্যা আজ জননী
বিশ্ব মানবতার মমতাময়ী মাতা
আবহমান কালের বাঙালির মমত্ব মূর্ত হয়েছে দেশরত্নের প্রকৃতিতে
এতদিন কি আমরা এমন সূর্য কিরণের খোঁজেই ছুটেছি দিগদিগন্ত?

আজকের পর
এখান থেকেই বিশ্বব্যাপী বিতরণ হবে শান্তির অমিয় সুধা
সুনীল আকাশ পাবে উজ্জল শুভ্রতা
ইথারে ভাসবে সুখ সংগীত
সবুজ পাতায় ভরবে বৃক্ষশাখা
পদ্মাজলে বয়ে যাবে প্রমত্ত প্রেমের জোয়ার
শেখের কন্যার মত আমার দেশের নারীরা হবে সভ্যতার অহঙ্কার

আমি নতুন এক সময়ের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি বাতাসের তরঙ্গে
অন্ধকার পালিয়ে যায় ঐ কোন সুদূর সাগর সঙ্গম
মুক্ত পৃথিবীর ছবি ফুটে উঠছে প্রতিটি কোমলমতি শিশুর পবিত্র চোখে
শাপলা শালুকের শুভ্রতায় ছেয়ে যায় হৃদয়পুর
অন্তরের আহ্বানে জাগে সমস্ত সত্তা পরমানন্দে
প্রাণের ভেতর প্রেরণার সেজুতি জলে

সূর্যের কাছাকাছি পৌঁছতে উচ্ছলিত হয়ে উঠি
ইতিহাসের পাতায় হেঁটে আসি সহস্র বর্ষ
জাগরণের ঢেউ আছড়ে পড়ে বঙ্গের বন্দরে
বাঙলার বুক জুড়ে সোনালী ফসল
আঁকা বাঁকা নদী পথে নতুন দিনের আগমনী ধ্বনি
পৃথীবির শেষ প্রান্ত উদ্ভাসিত হয় এই মহিয়সীর খোলা চোখে

জননী সাজিয়ে তুলবেন
মনের মাধুরি দিয়ে
আসমুদ্র হিমাচল
সুজলা সুফলা ধনধান্যে ভরা বঙ্গভূমির সবুজ মানচিত্র
রাঙিয়ে তুলবেন লাল সবুজের শুভ্র পতাকা বিশাল বিশ্বের মোহন রঙে।

বাঙালি মোল্লার মন

অঙ্গে অঙ্গে দ্বন্দ্ব
নির্লজ্জ ভয়াল
শিকড়ে শিকড়ে জ্বালা
কণ্টকে পূর্ণ মস্তিষ্ক
মুখভরা বিষ
চেতনায় কড়াল কালি
ডালে ডালে বক্রতা
নিশ্বাসে ধ্বংস সংগীত
দিগন্তজুড়ে নৃশংসতার আলিঙ্গন
হিংসায় ভরে আছে মৌলবীর বুক

পদে পদে শৃঙ্খল
সংকীর্ণ প্রকোষ্ঠ
কচু পাতায় টলটলায়মান জল
আবেগে কম্পমান
কাঠের ন্যায় শক্ত
সময়ে অতি তরল
অসীম জ্ঞানের অহং
বাতাসে ক্রুর হাসির শব্দ
পৃথিবীতে টেনে আনে আদিম অরণ্য
সত্যকে বন্দী করে প্রবল মিথ্যার মায়াজালে

উগ্র বকধার্মিক
অন্ধ বধির বোবা
বুদ্ধি প্রতিবন্ধী গোড়া
এসব বিশেষণের পর বলতে হয়
এদের অন্তরে মরচে পড়েছে বহুকাল
দৃষ্টি শ্রবণ ও অনুভবে লেগে আছে চির মোহর

ইহাদের উপর রহম করো খোদা!
তোমার সৃষ্টিকূলের মাঝে বাঙালি জমহুর প্রজাতি-
বিশেষ মায়া দৃষ্টির হক রাখে।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *