‘ভারতের স্বাধীনতায় দেওবন্দ ও দ্বীনী মাদরাসার অবদান অনেক বেশি’
পাথেয় টোয়েন্টিফের ডটকম (দেওবন্দ) : ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে দারুল উলূম দেওবন্দ এবং দ্বীনী মাদরাসাগুলোর অবদানই সবচেয়ে বেশি দাবি করে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দারুল উলূম দেওবন্দের মুহতামিম মুফতী আবুল কাসেম নোমানী বলেন, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে মুসলিমদের এবং দারুল উলূম দেওবন্দের যদি অবদান না থাকতো, তাহলে ভারত কখন স্বাধীন হতে পারতো না। আর স্বাধীন হলেও সেটা অনেক বেশি কষ্টকর হয়ে যেত।
ভারতে স্বাধীনতা আন্দোলনে উলামায়ে কেরামের অবদান অনস্বীকার্য দাবি করে দারুল উলূম দেওবন্দের মুহতামিম বলেন, সত্য ইতিহাস চর্চা করলে আমরা অবশ্যই জানতে পারবো, স্বাধীনতাযুদ্ধে হিন্দুদের সঙ্গে উলামায়ে কেরাম ও মুসলমানদের তাজা রক্তের বিনিময় এই ভারত স্বাধীন হয়েছে। জেল খাটা অজস্র উলামায়ে কেরামের আত্মদান ও ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলে অসংখ্য মুসলমানের প্রাণের বিনিময়ে ভারত স্বাধীন হয়েছে। তিনি বলেন, মাওলানা কাসেম নানুতাবী রহ. দারুল উলূম দেওবন্দকে ব্রিটিশবিরোধী একটি শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন।
২৭ জানুয়ারি রোববার দারুল উলূম দেওবন্দের মুহতামিম মুফতী আবুল কাসেম নোমানী ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোতে পাঠানো বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।
উলামায়ে কেরামই ওয়াজ-নসিহতের মাধ্যমে জনসাধারণকে ভারত স্বাধীন করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছেন উল্লেখ করে মুফতী আবুল কাসেম নোমানী বলেন, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে উলামায়ে কেরাম ময়দানে যুদ্ধ করেছেন, আবার অনেকে ওয়াজ-নসিহতের মাধ্যমে জনসাধারণকে যুদ্ধের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করেছেন এবং যুদ্ধ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছেন।
তিনি বলেন, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের পাতা এখন উল্টালে যাদের নাম অবশ্যই পাওয়া যায় তারা হলেন– মহাত্মা গান্ধী, সুভাষ চন্দ্র, অরবিন্দ, জোহরলাল, মতিলাল প্রমুখ। কিন্তু তাদের চেয়েও বেশী বা সমতুল্য নেতা মাওলানা আতাউল্লাহ বুখারী রহ., মাওলানা সাইয়্যিদ হোসাইন আহমদ মাদানী রহ., মাওলানা মাহমুদুল হাসান দেওবন্দী রহ., মাওলানা গোলাম হোসেন প্রমুখ তাদের নাম ভারতের ইতিহাসে নাই। অথচ ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে তাদের অবদান কোনোভাবে অস্বীকার করা যাবে না। অস্বীকারের সুযোগ নেই।
ভারতের মুসলমানরা তাদের দেশকে ভালোবাসে দাবি করে দারুল উলূম দেওবন্দের মুহতামিম বলেন, ভারত মুসলমানদের, ভারত আমাদের, আমরা ভারতকে ভালোবাসি, আমরা ভারতেই সবসময় থাকবো। তিনি বলেন, এখনো দারুল উলূম দেওবন্দ দেশপ্রেমের শিক্ষা দেয়। দেশ ও জাতীয় কল্যাণে কাজ করার কথা বলে।
গ্রন্থনা ও অনুবাদ : আদিল মাহমুদ
সূত্র : উর্দু ডেইলি পত্রিকা অবলম্বনে
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির


