দাপুটে জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে কুমিল্লা

দাপুটে জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে কুমিল্লা

ক্রীড়া ডেস্ক : ৮০ রানের দাপুটে জয় তুলে নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে আসলো ইমরুল কায়েসের দল। সোমবার দিনের ম্যাচে ব্যাট হাতে কাজটা অর্ধেক করে রেখেছিলেন এভিন লুইস। চার-ছ্ক্কার পসরা সাজিয়ে অনবদ্য সেঞ্চুরি করে দলকে ২৩৭ রানের পাহাড়সম পুঁজি এনে দিয়েছিলেন তিনি। তার সেঞ্চুরির পর ওয়াহাব রিয়াজের হ্যাট্রিকে খুলনা টাইটান্সকে হেসে-খেলে বিপক্ষ দলকে হারালো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

টার্গেটে দুরন্ত শুরু করেছিল প্রতিপক্ষরা। তবে শহীদ আফ্রিদির বোলিংয়ের কাছে তা ধোপে টেকেনি। বল হাতে বাকি কাজটুকু সারলেন ওয়াহাব রিয়াজ। দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে দলকে এনে দিলেন বড় জয়। লুইস-আফ্রিদি-ওয়াহাব নৈপুণ্যে খুলনা টাইটানসকে ৮০ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। দুরন্ত জয়ে এবারের বিপিএলে প্রথমবার পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠল ইমরুল বাহিনী।

লিগ পর্ব থেকে বিদায় নিশ্চিত হওয়া খুলনা টাইটান্স অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ চেয়েছিলেন, শেষের দুইটা ম্যাচ অন্তত জিততে। কিন্তু সেটা হতে দিলো না কুমিল্লা। লুইস, ইমরুলদের দেয়া রানের পাহাড় টপকাতে গিয়ে শুরুটা ভালো হলেও শেষ পর্যন্ত খেই হারিয়ে ফেলে খুলনা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৫ রান করেন ওপেনিংয়ে ব্যাট করা ব্রেন্ডন টেইলর। মিডল অর্ডারের ব্যর্থতার পর টেল এন্ডে তাইজুল, শরিফুলরা দিশেহারা হয়ে যায় ওয়াহাব রিয়াজের পেসে। মড়ার উপর খাড়ার ঘা হয়ে আসে তার হ্যাটট্রিক। ১৯তম ওভারে ডেভিড ওয়াইসি, তাইজুল এবং সাদ্দামকে তুলে নিয়ে হ্যাট্রিক পূরণ করেন ওয়াহাব।

এর আগে মাত্র ২ রানের জন্য বিপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলীয় স্কোরের রেকর্ডটা নিজেদের দখলে নিতে পারেনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। খুলনা টাইটান্স বোলারদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে তারা সংগ্রহ করে ২৩৭ রান। বর্তমানে রেকর্ডটি রংপুর রাইডার্সের দখলে। চলতি আসরে চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে রাইলি রুশো এবং অ্যালেক্স হেলসের সেঞ্চুরিতে ২৩৯ রান করে মাশরাফির দল।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ৩৩তম ম্যাচে টস জিতে আগে বোলিং নেন খুলনা টাইটানস অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ফলে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে ইমরুল কায়েসের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। শুরুটা হয় আশাব্যঞ্জক। উড়ন্ত সূচনা এনে দেন তামিম ইকবাল ও এভিন লুইস। উদ্বোধনী জুটিতে ৫৮ রান তোলেন তারা। ২৫ রান করা তামিমকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন মাহমুদউল্লাহ। পরের বলেই আনামুল হককে তুলে নিয়ে ধাক্কা দেন খুলনা অধিনায়ক। রানের খাতায় খুলতে পারেননি বিজয়।

তবে সেই ধাক্কাটা টের পেতে দেননি এভিন লুইস। পরে ইমরুল কায়েসকে নিয়ে খেলা ধরেন তিনি। একপর্যায়ে জমাট বেঁধে ওঠে তাদের জুটি। প্রথমে ধীর-লয়ে চললেও ক্রিজে সেট হওয়া মাত্রই ছড়ি ঘোরাতে শুরু করেন তারা। রীতিমতো ঝড় তোলেন এ জুটি। ব্যাটকে তলোয়ার বানিয়ে কচুকাটা করেন প্রতিপক্ষ বোলারদের।

পথিমধ্যে ফিফটি তুলে নেন লুইস। হাফসেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যান ইমরুলও। তাতে দুরন্ত গতিতে ছোটে কুমিল্লা। তবে অতিরিক্ত চড়াও হতে গিয়ে শরিফুল ইসলামের এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন অধিনায়ক। সাজঘরে ফেরত আসার আগে ২১ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৩৯ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলেন ইমরুল। পরে ক্রিজে এসে আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি থিসারা পেরেরা। কার্লোস ব্র্যাথওয়েটের বলে উইজকে ক্যাচ দিয়ে আসেন তিনি। এর রেশ না কাটতেই ক্যারিবীয় পেসারের বলির পাঁঠা হন বুমবুম শহীদ আফ্রিদি।

তবে একপ্রান্ত আগলে থেকে যান লুইস। তার তাণ্ডব চলতেই থাকে। পরে ক্রিজে এসে রানের ফোয়ারা ছোটান শামসুর রহমান। জমে ওঠে তাদের যুগলবন্দি। একের পর এক বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারির পসরা সাজান তারা। তাতে বিপিএল ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যায় কুমিল্লা। তবে শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। নির্ধারিত ওভারে ৫ উইকেটে ২৩৭ রান তুলে থামেন এ জুটি।

মাত্র ৪৯ বলে ৫ চারের বিপরীতে দ্বিগুণ ছক্কায় ১০৯ রানের হার না মানা বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন লুইস। আর কেবল ১৫ বলে ১ চারের বিপরীতে ২ ছক্কায় ২৮ রানের টর্নেডো ক্যামিও খেলে অপরাজিত থাকেন শামসুর। খুলনার হয়ে মাহমুদউল্লাহ ও ব্র্যাথওয়েট নেন ২টি করে উইকেট।

স্কোর:
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স: ২৩৭/৫ (২০)
তামিম ইকবাল ২৫ (২৯)
এভিন লুইস ১০৯* (৪৯)
এনামুল হক ০ (১)
ইমরুল কায়েস ৩৯ (২১)
থিসারা পেরেরা ১১ (৪)
শহীদ আফ্রিদি ১ (২)
শামসুর রহমান ২৮* (১৫)

বোলার:
শরিফুল ইসলাম ৪-০-৫৩-১
সাদ্দাম হোসেন ৪-০-৫৯-০
ডেভিড ওয়াইসি ৪-০-৪৯-০
মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ৪-০-৩২-২
কার্লস ব্রাফেট ৪-০-৪২-২

খুলনা টাইটান্স: ১৫৭/১০ (১৮.৫)
ব্রেন্ডন টেইলর ৫০ (৩৩)
জুনায়েদ সিদ্দিকী ২৭ (২৪)
ডেভিড মালান ১৩ (১০)
মাহমুদুল্লাহ ১১ (৭)
কার্লস ব্রাফেট ২২ (১৩)
নাজমুল হোসেন শান্ত ১৪ (১২)
ডেভিড ওয়াইসি ৮ (৮)
আরিফুল হক ২ (২)
তাইজুল ইসলাম ১ (৪)
শরিফুল ইসলাম ০* (০)
সাদ্দাম হোসেন ০ (১)

বোলার
মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ৩-০-২৯-১
মেহেদী হাসান ৪-০-২৮-১
মোহাম্মদ শহীদ ২-০-২৪-০
ওয়াহাব রিয়াজ ২.৫-০-১৪-৩
শহীদ আফ্রিদি ৪-০-২৭-৩
থিসারা পেরেরা ৩-০-২৮-১

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *