পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দল অং সান সুচির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি(এনএলডি)মঙ্গলবার দেশটির সংবিধান পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে। রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর ক্ষমতার বিরুদ্ধে গত তিন বছরের এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।মিয়ানমারে সেনাবাহিনী রচিত সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব উত্থাপন করেছে সুচির এনএলডি।
এই প্রস্তাবে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও অং সান সুচির ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে পারে। ২০১৫ সালে নির্বাচনে ব্যাপক বিজয়ের পর সংবিধান নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে দুই পক্ষ।
সংবিধান সংশোধন করে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা কমিয়ে আনার আহ্বান জানানোর পর ২০১৭ সালের ২৯ জানুয়ারি সুচির মুসলিম উপদেষ্টা কো নিকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। ইয়াঙ্গুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হলেও ঘটনার বিচারের কোন উদ্যোগই নেয়া হয়নি। ওই ঘ্টনার দ্বিতীয় বার্ষিকীতেই সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব আনলো এনএলডি।
বয়টার্সের খবরে বলা হয়, সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব আনার ফলে সেনাবাহিনী ও সুচির এনএলডির মধ্যে উত্তেজনা ছড়াতে পারে। নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের তিন বছর পর এই প্রথম সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব করেছে এনএলডি। নির্বাচনে জয় পেলেও সংবিধানের অদ্ভুত বিধানের কারণে প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি সুচি।
২০১৭ সালে রাখাইনে সংখ্যালঘু মুসলমান রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ধরপাকড় নিয়ে যখন দেশটির সামরিক ও বেসামরিক নেতারা আন্তর্জাতিক চাপে রয়েছেন, তখন সংবিধান সংস্কারের এ প্রস্তাব আনা হয়েছে। রাখাইনে সেনাবাহিনীর নিধন অভিযানে সাড়ে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।
মঙ্গলবার পার্লামেন্টে স্পিকার টি খুন মেইয়াট বলেন, পার্লামেন্টে এনএলডি সদস্য অং কেই এনইউট জরুরি প্রস্তাবটি দিয়েছেন। সংবিধান সংশোধনে একটি সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।
সামরিক আইনপ্রণেতা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোং মোং এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করলেও স্পিকার তা প্রত্যাখ্যান করেন। মোং মোং বলেন, এতে সংবিধানের কার্যপ্রণালিবিধি লঙ্ঘন হবে।
পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য শান্তিতে নোবেলজয়ী সুচির এনএলডি দল থেকেই নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০৮ সালের সংবিধানের খসড়া সামরিক শাসনের আমলে তৈরি করা হয়েছে। এতে পার্লামেন্টের এক-চতুর্থাংশ সদস্য সেনাবাহিনীর ভেতর থেকে রাখার কথা বলা হয়েছে।
সংবিধান সংশোধন করতে হলে পার্লামেন্টে ৭৫ শতাংশ সদস্যের ভোট লাগবে। সেনাবাহিনীকে কার্যকর ভেটো দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে।


