পাথেয় রিপোর্ট : বিরোধ জটিলতা কেটে যাওয়ায় বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনে শুরু হয়েছে তোড়জোড়। সারা দিন মাঠ তৈরিতে ব্যস্ত তাবলিগ জামায়াতের কর্মীরা। ১৫ ফেব্র“য়ারি শুরু হবে ৪ দিনের এই আয়োজন। এক পর্বেই শেষ হবে মুসলিম উম্মার এই সমাবেশ। তবে, আখেরি মোনাজাত হবে দুটি।
এরই মধ্যে টঙ্গীর তুরাগ তীরে ইজতেমার প্রস্তুতির কাজ প্রায় ৭৫ ভাগ শেষ হয়েছে। ওয়াচ টাওয়ার, সিসি ক্যামেরাসহ সব ধরনের নিরাপত্তা উপকরণের পাশাপাশি মুসল্লিদের নিরাপত্তায় নেয়া হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
টঙ্গীর তুরাগ তীর ১৬০ একর জায়গা। পুরো মাঠটি জুড়ে চলছে ইজতেমার ৫৩তম আসরের প্রস্তুতির কর্মযজ্ঞ। শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ব্যস্ত আয়োজন সফল করতে। স্বেচ্ছাশ্রমের এরকম দৃষ্টান্ত খুব কমই দেখা যায়।
সরকারি হস্তক্ষেপে ইজতেমা নিয়ে জটিলতা দূর হয়েছে কয়েকদিন আগেই। তাই সময় কম থাকায় প্যান্ডেল তৈরি, খুঁটি বসানো, সামিয়ানা টানানোর কাজ চলছে পুরোদমে। আগত দেশি-বিদেশি মুসল্লিদের ইবাদত নির্বিঘ্ন করতে টয়লেটের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সহায়তায় তুরাগ নদে তৈরি করা হচ্ছে ৬টি ভাসমান সেতু। চলছে ইজতেমার মূল মঞ্চ নির্মাণের কাজ।
এক মুসল্লি বলেন, ‘আল্লাহ চেয়েছে বলেই এখানে আসতে পেরেছি। প্রতিবছরই এখানে আসি। এখানে আসলে ভালো লাগে।’ মুসল্লিদের নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরা ছাড়াও পুরো ময়দানকে নিরাপত্তার চাদরে ঘিরে ফেলা হবে বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। এছাড়া ইজতেমা শুরুর আগেই সব কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার কথা বলছেন আয়োজকরা।
টঙ্গি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘ইজতেমার নিরাপত্তা ঠিক রাখতে সার্বিকভাবে আমরা তদারকি করছি। ৩ স্তরের নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করবো।’ আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইজতেমা শেষ হবে ১৮ ফেব্রুয়ারি।
দিল্লী মারকাজের শীর্ষ মুরুব্বী সা’দ কান্দলভী ও বাংলাদেশের মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীদের বিবাদে, সম্প্রতি সমঝোতা হয়। সে হিসেবে টানা চারদিনের ইজতেমা শুরু হচ্ছে আগামী শুক্রবার।
টঙ্গীর তুরাগ পাড়ে এরই মধ্যে অনেকটা এগিয়েছে ময়দানের কাজ। যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা মুসল্লীরা।
বুধবারের মধ্যে ময়দান পুরোপুরি প্রস্তুত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। মুসলিম উম্মাহ’র ঐতিহ্য রক্ষায় সফল ইজতেমা আয়োজনে সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। প্রতিবারের মতোই থাকবে আইনশৃংখলা বাহিনীর বিশেষ নজরদারি
এবারের বিশ্ব ইজতেমায় দুই পক্ষে দুটি আখেরি মোনজাত হবে। একটি শনিবার এবং অপর মোনাজাত সোমবার।


