এরশাদের জোটে মাথাব্যথা নেই ১৪ দলের

এরশাদের জোটে মাথাব্যথা নেই ১৪ দলের

নিজস্ব প্রতিবেদক ● নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন জোট গঠন করে ফের রাজনৈতিক সমীকরণে আসার চেষ্টা করছে সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। তবে এ নিয়ে উদ্বিগ্ন নয় ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোট। জোট নেতারা বলছেন, রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়াতেই এরশাদের এই নতুন কৌশল। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে ১৪ দলের সঙ্গী ছিল জাতীয় পার্টিও। বর্তমান সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকলেও সরকারের মন্ত্রিত্ব নিয়ে ক্ষমতাসীনদের ছায়া থেকে বের হতে পারেনি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের দলটি। এমনকি সংসদে দলের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদের সাথে প্রকাশ্যেই দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন তিনি। বিভিন্ন সময় জাতীয় পার্টিকে ‘প্রকৃত’ বিরোধী দল হিসেবে দেখতে চাওয়ার প্রত্যাশা জানালেও তিনি নিজেই প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে রয়েছেন। তবে আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির অবস্থান কি হবে তা ইতোমধ্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন এরশাদ। বিএনপির অংশগ্রহণ করা, না করা নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যেই নতুন জোট নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি।

১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বলছেন, আলোচনার বাইরে ছিটকে না যেতেই নামসর্বস্ব দল নিয়ে দর কষাকষির একটি অবস্থান তৈরি করতে চাচ্ছেন তিনি। তবে এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। হেফাজতে ইসলামী, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ নানা কারণে গত দুই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সাথে ক্ষমতাসীনদের সমঝোতা হলেও, এবার আর সেটি হবে না। কারণ, সরকার নিজেই এখন শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রত্যাশা করছে। এ বিষয়ে ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ও সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, এরশাদ ডিগবাজির লোক, এরশাদ সবসময় ডিগবাজি দেয়। এটা তো নতুন কিছু নয়। ১৪ দলের অভ্যন্তরে নতুন জোটের কোনো প্রতিক্রিয়া আছে কিনা জানতে চাইলে প্রবীণ এ রাজনীতিবিদ বলেন, ডিগবাজি, স্ট্যান্ডবাজি এরশাদ সাহেবের কাজ। এ নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।

আগামী নির্বাচনে এ জোট রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে কিনা- এ বিষয়ে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে নিজের গুরুত্ব বাড়াতে তিনি ডিগবাজি, স্টান্টবাজি করেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে উনার গুরুত্ব বাড়ানোর জন্যই তিনি এ জোট করেছেন। দিলীপ বড়ুয়া বলেন, এ ধরনের দলবাজি, স্টান্টবাজি উনি অতীতেও করেছেন, ভবিষ্যতেও করবেন। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ একজন নেতা বলেন, এ নিয়ে ১৪ দলের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। কারণ, নতুন জোট আমাদের ভোটব্যাংক কিংবা সমমনা কোনো রাজনৈতিক দলকে ভিড়াতে পারবে না।

ভোটের হিসেবে হেরফের করতে না পারলেও বিএনপি নির্বাচনে আসলে এ জোট ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আমেজ আনবে বলেও মনে করেন ১৪ দলীয় জোট নেতারা। ১৪ দলীয় জোট নেতা ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) আহ্বায়ক রেজাউল রশীদ খান বলেন, আমাদের মনে হচ্ছে, এ জোটের মাধ্যমে জাতীয় পার্টি বিরোধী দল হিসেবে দাঁড়ানোর জন্য কাজ করবে। সেই সম্ভাবনা থেকে, শক্তিশালী বিরোধী দলের চিন্তাভাবনা থেকে হয়তো তারা কাজ করতে চাচ্ছে।

নির্বাচনে এ জোটের প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে বার্গেনিং করার জন্যই এ জোট করা হয়েছে। ১৪ দলের প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে বাসদ আহ্বায়ক বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কোনো আলোচনা হয়নি। তবে আমরা এই আলোচনা করেছি যে, বিরোধী দল স্ট্রং থাকা উচিত। তারা শক্তিশালী হোক। ২০-৩০টি আসন নিয়ে তারা মন্ত্রিত্বে থাকবে কেন? বিরোধী দল বিরোধী দলের মতো থাকবে, এটা যে ঠিক না; সেই সমালোচনাটা আমরা করি।

তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসার জন্য, হেফাজত-বিএনপি ফ্যাক্টরের জন্য আমাদের সমঝোতা করতে হয়েছে। ভবিষ্যতে এমনটা হবে না, সে আলোচনা হয় আমাদের মধ্যে। আগামী নির্বাচনে এরশাদ জোটের সাথে সমন্বয়ের বিষয়টি নাকচ করে বাসদ প্রধান রেজাউল বলেন, এখন আমরা মহাজোট বলি না, ১৪ দলীয় জোট বলি। এরশাদ তো আমাদের সাথে নেই। আর আগামী নির্বাচনে ১৪ দল এককভাবে অংশ নিবে, মহাজোট হবে না। এটি আমাদের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *