‘জ্ঞান অর্জনে ইসলাম মানুষকে উৎসাহী করে’
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ইসলাম জ্ঞান অর্জনে মানুষকে উৎসাহী করে মন্তব্য করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেছেন, ইসলামে জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব অপরিসীম। রাসূল সা.-এর উপর সর্বপ্রথম ওহী নাযিল হয়েছিল, ‘ইকরা’। পড়ো। এমন কি জ্ঞানঅর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর আবশ্যক করা হয়েছে। সাহাবায়ে কেরামের যুগে মুসলানদের একটি বৈশিষ্ট্য ছিল জ্ঞানী হওয়া।
পাঠ ও অধ্যয়নের মাধ্যমে একমাত্র মানুষ জ্ঞান লাভ করে উল্লেখ করে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, জ্ঞান অর্জনের একটা উপায় পাঠ ও অধ্যায়ন। মানুষ অনেকগুলো মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করতে পারে। যেমন, অভিজ্ঞতা, স্পর্শ, চোখ, ইত্যাদি। কিন্তু আল্লাহ তাআলা কুরআন শরীফে বলেছেন, ‘ইকরা’ পড়ো। কারণ পাঠ ও অধ্যয়নের মাধ্যমে একমাত্র মানুষ জ্ঞান লাভ করতে পারে, অন্য কেউ নয়। আর অভিজ্ঞতা, স্পর্শ, চোখ এসবের মাধ্যমে পশুপাখিরাও জ্ঞান অর্জন করতে পারে।
আল্লামা মাসঊদ বলেন, আল্লাহ তায়ালা মানুষের মধ্যে জ্ঞান অর্জনের ক্ষমতা, বিবেকবোধ, ভালো-মন্দ যাচাই করার শক্তি, গবেষণা, অজানাকে জানার ক্ষমতা দিয়েছেন। এই যোগ্যতা আল্লাহ তাআলা অন্য কোনো প্রাণীকে দেননি।
১৫ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাজধানীর খিলগাঁও ইকরা বাংলাদেশ জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে জুমার বয়ানে সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.-এর খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এসব কথা বলেন।
জ্ঞান অর্জন করা মুসলমানদের বৈশিষ্ট্য ছিল দাবি করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, রাসূল সা. এবং তার সাহাবায়ে কেরাম ছিলেন জ্ঞান-বিজ্ঞানে পরিপূর্ণ। সাহাবায়ে কেরামের দুইটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল। ১. জ্ঞান। ২. আখলাক। ইসলামে জ্ঞান অর্জনকে সর্বাবস্থায় উৎসাহিত করা হয়েছে। জ্ঞান অর্জনকে ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
হিন্দু, ইহুদী, খৃস্টানদের থেকেও জ্ঞান অর্জন করা যাবে উল্লেখ করে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, যে কোন ধর্মী, যে কোন মতাদর্শের মানুষের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করা যাবে। তবে তার আদর্শ গ্রহণ করা যাবে না। রাসূল সা. একদিন হযরত যায়েদ ইবনে সাবেত রা.কে বলেছিলেন, হে যায়েদ, শুধু আরবী ভাষা শিক্ষা করলে হবে না, যাও ইহুদীদের কাছ থেকে হিবরু ভাষায় পারদর্শিতা অর্জন করে এসো। তারপর হযরত সাবেত রা. কয়েক সপ্তাহের মধ্যে হিবরু ভাষাসহ ৩০টা ভাষায় পরদর্শিতা অর্জন করেন।
আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, সমস্ত ভাষা আল্লাহ তাআলার সৃষ্টি। আল্লাহ তাআলাই মানুষকে ভাষা শিখিয়েছেন, কুরআন শরীফে তিনি বলেছেন, ‘খালাকাল ইনসান, আল্লামাহুল বায়ান’। কোন ভাষা কোন মানুষ সৃষ্টি করেনি। ইংরেজি ভাষা ইহুদী-খৃস্টানদের ভাষা নয়। যুগপোযোগী ভাষায় দক্ষতা অর্জনের গুরুত্ব ইসলামে রয়েছে।
এই উম্মতের বৈশিষ্ট্য ছিল আখলাক উল্লেখ করে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, এই উম্মতের বৈশিষ্ট্য ছিল, রাসূল সা. এবং তার সাহাবায়ে কেরমের জ্ঞান ও আখলাকের কারণের ইসলাম দ্রুত প্রচার হয়েছে। মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে।
আল্লামা মাসঊদ আফসোসের সাথে বলেন, আমার আমাদের জ্ঞান এবং আখলাক দু’টাই হারিয়ে ফেলেছি। আর এই জন্য সামাজে লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছি। মসজিদে উপস্থিত মুসল্লীদেরকে জ্ঞান অর্জন ও আখলাকে সুন্দর করার আহ্বান জানান তিনি।


