পাথেয় রিপোর্ট : বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাস্টবিন থেকে অপরিণত বয়সের ৩৩ শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার রাত পৌনে নয়টার দিকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ওই স্থান থেকে ভ্রূণগুলো উদ্ধার করেন।
এ নিয়ে এখন তোলপাড় সারাদেশ। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এ নিয়ে খবরে তাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। সবার মনে এখন একটা প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে কীভাবে মানব ভ্রূণগুলো ময়লার স্তূপে। যদিও চিকিৎসকরা দাবি করেছেন, ভ্রূণগুলো গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে প্রশ্ন হলো গবেষণা শেষে মাটিচাপা না দিয়ে এসব ভ্রূণ কেন ডাস্টবিনে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, জরায়ুতে ভ্রূণ (ফিটাস) ৩৮ সপ্তাহ অবস্থান করে। এ সময়কে গর্ভধারণকাল বলা হয়।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বলেন, এই ভ্রূণগুলো ২৫-৩০ বছর আগের। এগুলো শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য হাসপাতালের গাইনি বিভাগের ছিল। এগুলো আর গবেষণার উপযুক্ত না থাকায় তা ডাস্টবিনে ফেলা হয়েছে। যেটা উচিত না। এর দায়ভার আমিও এড়াতে পারি না।
তিনি বলেন, এই বিষয়টিতে হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান খুরশীদ জাহান বেগম পুরোপুরি দায়ী। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, মায়ের গর্ভে যেসব শিশু মারা যায় তাদের ফরমালিন দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। এগুলো অনেক সময় পরিবার নিতে চায় না তা শিক্ষার্থীদের গবেষণার কাজে লাগানো হয়। এসব ভ্রূণ এমনো হয় যে ১০ থেকে ২০ বছর ধরে সংরক্ষণ করে রাখা হয়।
এদিকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ডমাস্টার আবুল মোদাচ্ছের আলী কবির জানান, রাতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা হাসপাতালের পশ্চিম পাশে প্রধান পানির ট্যাংকের পাশে থাকা ডাস্টবিনের ময়লা অপসারণ করতে আসেন। এ সময় তাঁরা ময়লার স্তূপের ভেতরে প্লাস্টিকের বালতিতে অনেকগুলো ভ্রূণ দেখতে পান। পরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান।
হাসপাতালের চিকিৎসকদের একটি সূত্র জানায়, হাসপাতালের গাইনি বিভাগে অনেক মায়েরা অপরিণত (ইম্যাচিউরড) বাচ্চা প্রসব করেন। অনেক সময় পরিবারের লোকেরা এসব ভ্রূণ নিয়ে বাড়িতে যান। আবার অনেকে হাসপাতালে ফেলে যান। যেসব ভ্রূণ ফেলে যান, সেগুলো দিয়ে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল ক্লাস নেওয়া হয়। পরে তা কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
হাসপাতালটির পরিচালক বলেছেন,এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গাইনি বিভাগের দুজনকে বরখাস্ত করার চিঠি দেয়া হয়েছে। এছাড়া তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে বলে হাসপাতালটির কর্তৃপক্ষ জনিয়েছে।


