পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ সোমবার অপ্রত্যাশিতভাবে পদত্যাগ করেছেন। মার্কিন শিক্ষিত এই কূটনীতিককে ২০১৫ সালে বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক চুক্তির কারিগর বলা হয়ে থাকে।আজ মঙ্গলবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
নিজের ইনস্টাগ্রাম পেজে তিনি লিখেছেন, গত ৬৭টি মাসে ইরানের সাহসি নাগরিক ও কর্তৃপক্ষের উদারতার জন্য অনেক ধন্যবাদ। নিজ পদ আর কাজ চালিয়ে যেতে না পারায় এবং দায়িত্ব পালনের ভুলত্রুটির জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। তবে তিনি কেন পদত্যাগ করেছেন, সেই কারণ উল্লেখ করেননি। গণমাধ্যমের অসমর্থিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদের ইরান সফরকে কেন্দ্র করে তিনি পদত্যাগ করেছেন। উল্লেখ করার মতো ঘটনা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট বাসার ইরান সফর করলেও জারিফের সঙ্গে তার কোনো ছবি দেখা যায়নি। একটি অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ সম্পর্কে কিছু জানতেন না।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে নিজের সীমাবদ্ধতার জন্য জারিফ ক্ষমাপ্রার্থনা করেন। তিনি ইরানের জনগণ ও সরকারকে ধন্যবাদ জানান।২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি হওয়ার ক্ষেত্রে জারিফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়ার বিনিময়ে নিজের ২০১৫ সালের পারমাণবিক কর্মসূচির লাগাম টেনে ধরতে রাজি হয়েছিল ইরান।
কিন্তু সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে এই চুক্তি থেকে তাঁর দেশকে সরিয়ে নেন। উল্টো ইরানের ওপর অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে চুক্তিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
জারিফের পদত্যাগের বিষয়টি ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাও নিশ্চিত করেছে। তারা এই খবরে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রের উদ্ধৃতি ব্যবহার করেছে।
৫৯ বছর বয়সী জারিফ যুক্তরাষ্ট্রে পড়ালেখা করেছেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অব ডেনভার থেকে আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে পিএইচডি করেছেন। জারিফ জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। হাসান রুহানি ইরানের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ২০১৩ সালে জারিফ দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন।


