ওয়ানে উঠতে চার বছর লাগে, কেজি স্কুলের অবসান প্রয়োজন : তথ্যমন্ত্রী

ওয়ানে উঠতে চার বছর লাগে, কেজি স্কুলের অবসান প্রয়োজন : তথ্যমন্ত্রী

পাথেয় রিপোর্ট : কেজি স্কুলে চার বছর লাগে ওয়ানে উঠতে। পৃথিবীর কোথাও এ সিস্টেম নেই। এ সিস্টেমের অবসান হওয়া প্রয়োজন। ইউরোপে কোন বয়সে কোন ক্লাসে পড়বে সেটি নির্ধারিত থাকে। আমাদেরও তা করা উচিত। তাই কিন্ডারগার্টেন স্কুলের অবসান প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

শুক্রবার (১ মার্চ) দুপুরে বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিলের `শিশুর অধিকার: প্রেক্ষিত হালের বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, শিশুদের চেয়ে স্কুলের ব্যাগের ওজন বেশি। শিশুর কাঁধে বই-খাতার বোঝা কমাতে হবে। শহরে শিশুরা কার্টুন দেখে খাবার খাচ্ছে। মা-বাবা টেবিলে খাচ্ছে। আমি মনে করি একসঙ্গে খাওয়া উচিত। আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে সমাজকে বের করে আনতে হবে।

তিনি বলেন, শিশুদের উদ্বুদ্ধ করা যায় কিন্তু বাধ্য করা ঠিক নয়। শিশুশ্রম বড় সমস্যা। গৃহকাজে, শিল্প কারখানায় শিশুশ্রম দেশের আইনে সমীচীন নয়। তাদের প্রতি ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। একইসঙ্গে শিশুদের মনন তৈরিতে গুরুত্বারোপ করতে হবে। আমার শিক্ষকদের দেওয়া মূল্যবোধ এখনো প্রেরণা জোগায়।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা যে স্বপ্নের বাংলাদেশ রচনা করতে চাই, বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছেন তা পূরণে মেধাবী, বুদ্ধিদীপ্ত, মূল্যবোধ ও দেশাত্মবোধে জাগ্রত প্রজন্ম চাই। নয়তো উন্নত জাতি গঠন সম্ভব নয়।

সেমিনার উদ্বোধনকালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, সুযোগ বড় জিনিস। সেটি হাতছাড়া করা যাবে না। বঙ্গবন্ধু কন্যার উন্নয়নের সুফল মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছাতে হলে মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের মানুষ হতে হবে, অমানুষ নয়। মানুষ হলে মানবাধিকার নিশ্চিত হবে।

কাউন্সিলের সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে মুখ্য আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নূর-ই-আকবর চৌধুরী।

আলোচনা করেন জাতিসংঘ শিশু তহবিলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কর্মকর্তা মাধুরী ব্যানার্জি, কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল উদ্দিন আল আজাদ, বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের মহাব্যবস্থাপক নিতাই কুমার ভট্টাচার্য, শিক্ষাবিদ হাসিনা জাকারিয়া বেলা, কাউন্সিলের কার্যনির্বাহী সদস্য রেহানা চৌধুরী প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার আনজুমান বানু লিমা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *