পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে শনিবার (৬ এপ্রিল) আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান ওরফে রাফি (১৮)কে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যারচেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন।
অ্যাম্বুলেন্সযোগে হাসপাতালে নেওয়ার সময় নুসরাত জানিয়েছেন যারা তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল, তারা মুখোশধারী ছিল। তাদের কণ্ঠ তার চেনাজানা বলেও জানিয়েছেন। নুসরাতের কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো—
নুসরাত : এক মেয়ে জানায় আমার বান্ধবী নিশাতকে, যে সাক্ষ্য দিয়েছে তাকে ছাদের উপর কেউ মারছে। শুনে আমি তাড়াতাড়ি উপরে যাই, দেখি আরো মুখোশধারী কিছু মেয়ে ছাদের উপর দাঁড়িয়ে আছে। তারা আমাকে বলে, তুই বলবি প্রিন্সিপালের নামে যে অভিযোগ আনছিস, তা মিথ্যা।
প্রশ্নকর্তা : কে বলছে এ কথা?
নুসরাত : ওরা মুখোশধারী ছিল। কিন্তু কণ্ঠটা চেনা চেনা।
প্রশ্নকর্তা : কণ্ঠ শুনে তোর কি মনে হয়?
নুসরাত : কণ্ঠ, কণ্ঠ, আমি বলি?
প্রশ্নকর্তা : ঠিক আছে তুই বল।
নুসরাত : তারা আমারে বলে প্রিন্সিপালের নামে যে অভিযোগ এনেছিস, তুই বলবি তা মিথ্যা। তখন আমি বলি, না, আমি যা বলেছি সত্য বলেছি। তারা বলে, যদি তুই না, না বলিস, তাহলে তোরে এখনই মেরে ফেলবো।
প্রশ্নকর্তা : কে বলছে এ কথা?
নুসরাত : আমি তাদের বলি জীবন দিতে হলেও আমি মিথ্যা বলব না। তখন মুখোশধারীরা বলে, আমরা তোর প্রেম সংক্রান্ত সব খোঁজখবর নিয়েছি। তুই কার কার সাথে প্রেম করেছিস, আমরা সব খোঁজখবর নিয়েছি।
নুসরাত : তখন আমি বলি, আমি একটা না, দুইটা না, হাজারটা ছেলের সাথে কথা বলতে পারি। একই কথা আমি প্রিন্সিপালকেও বলেছি। কিন্তু আমি শিক্ষকদের সম্মান করি। কিন্তু যে শিক্ষক আমার গায়ে হাত দিছে আমি তার প্রতিবাদ করেছি। আমি এ অন্যায়, এ অন্যায়ের প্রতিবাদ কবর, শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত।
নুসরাত : তারা সাথে সাথে আমার হাত ধরেছে, পা ধরেছে, গায়ে আগুন দেয়।
প্রশ্নকর্তা : এ ঘটনাটা কোথায় ঘটছে?
নুসরাত : ছাদের উপর, ছাদের উপর। ওরা বলছে, নিশাতকে কেউ মারছে। এটা শুনার পর আমি উপরে যাই।
প্রশ্নকর্তা : সত্যিই কি কেউ নিশাতকে তখন মারছিল?
নুসরাত : না, নিশাততো ওখানে ছিল না।
প্রশ্নকর্তা : তোর কে বলছে, নিশাতকে কেউ মারছে?
নুসরাত : মেয়ে একটা।
নুসরাত : এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করব, আমি সারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে বলব, প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলব। এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করার পর এটা হলো আমার সাথে।
প্রশ্নকর্তা : বোন তুই একটু রেস্ট কর।
উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ ওই ছাত্রীকে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা শ্লীলতাহানি করেন অভিযোগে মামলা হয়েছে। ছাত্রীর মায়ের করা মামলায় অধ্যক্ষ এখন কারাগারে।
ওই ছাত্রীর ভাইয়ের অভিযোগ, শনিবার মাদরাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে বান্ধবীকে মারধর করা হচ্ছে- এমন খবর পেয়ে সেখানে গিয়েছিল তার বোন। যাওয়ার পরই তাকে ঘিরে ধরে বোরকা পরা চার-পাঁচজন ছাত্রী। তারা শাসাতে থাকে, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কেন মিথ্যা অভিযোগ এনেছে।
জবাবে তার বোন বলেছিল, সে যে অভিযোগ করেছে, তা সত্য এবং শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত এর প্রতিবাদ করবে। এরপর ওই ছাত্রীদের কেউ তার হাত, কেউ পা ধরে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় ওই অধ্যক্ষকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া ছাত্রীর চিকিৎসার জন্য মাদরাসা কর্তৃপক্ষ দুই লাখ টাকা দেবে।
সোনাগাজী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামাল হোসেন বলেন, মাদরাসাটি পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদরাসার একজন শিক্ষক ও এক ছাত্রকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।


