চোখ মেলে দেখি ফিদায়ে মিল্লাত

চোখ মেলে দেখি ফিদায়ে মিল্লাত

ওয়ালীউল্লাহ মাসুদ : ১৯৯৮ সালের কথা। তারিখ ঠিক মনে নেই। মনে রাখার চেষ্টা ও করিনি। আমি তখন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের দপ্তর সম্পাদক, সাথে সাথে সাপ্তাহিক জমিয়তের নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে কর্মরত। বয়সে তরুণ হলেও পদাধিকারের কারণে তৎকালিন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের শীর্ষস্থানীয় নেতা তথা দেশের বরেণ্য আলিমদের সাথে সচারাচর ঊঠাবসা করতে হয়েছে।

হযরত শায়েখ আব্দুল হক গাজীনগরী মদফুনে মক্কী, উস্তাদে মুহতারাম হযরত মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী, হযরত মাওলানা মুহিউদ্দিন খান, হযরত মাওলানা হোসাইন আহমদ বারোকুটি, হযরত মাওলানা মোস্তফা আজাদ, হযরত মাওলানা মুফতি ওয়াক্কাস সহ আলিমদের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হয়েছে। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাক্ষাত করতে হয়েছে কায়িদুল উলামা শায়েখ আব্দুল করিম (শায়েখে কৌড়িয়া), পীরে কামিল হযরত মাওলানা ইদরীস সন্দীপি, ফকিহে মিল্লাত মুফতি আব্দুর রহমান, হযরত মাওলানা মুফতি ফজলুল হক আমিনীসহ অনেকে আলিমের সাথে।

ঐ সময় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের অস্থায়ী কার্যালয় ছিল জামিআ হোসাইনিয়া আরজাবাদে। ঢাকায় মাদানিয়্যাতের অন্যতম ঘাটি ছিল আরজাবাদ। ফিদায়ে মিল্লাত হযরত সায়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.-এর ঢাকায় অবস্থান ছিল আরজাবাদে। মাদানী প্রেমিকদের আনাগোনায় নিয়মিত মুখরিত থাকত আরজাবাদ। এমনি একবার ফিদায়ে মিল্লাত হযরত সায়্যিদ আসআদ মাদানী রহ. বাংলাদেশে শুভাগমন হল। রাতের অবস্থানস্থল আরজাবাদের ১ম ভবনের নিচতলায় পশ্চিম কোনের নির্ধারিত রুমটি ছিল হযরতের জন্য নির্ধারিত। যথারীতি হযরত প্রোগ্রাম সেরে আরজাবাদে তার জন্য নির্ধারিত রুমে অবস্থান করলেন।

হযরতের বিশিষ্ট খলিফা ও খাদিম, আরজাবাদ মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা আনোয়ার মাহমুদ, আরজাবাদ মাদরাসার তৎকালিন মুহাদ্দিস, বর্তমান প্রিন্সিপাল মাওলানা বাহাঊদ্দিন যাকারিয়া ফুয়াদ, হযরত ক্বারী আব্দুল খালেক, হযরত ফিদায়ে মিল্লাতের সাথে কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য তার রুমে যাবেন। আওলাদে রাসূল সা. এবং মাদানিয়্যাতের প্রতি আজন্ম ভালোবাসায় আমিও তাদের পিছু নিলাম। রুমে ঢুকলাম। ফিদায়ে মিল্লাত খাটের উপর বসে ছিলেন, আর আমরা ফ্লোরে বসে পড়লাম। সকলের পেছনে আমি, তারা আলোচনা করছেন, আমি পেছনে বসে শুনছি। শোনার মাঝেই হযরতের অবস্থানস্থল রুমে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম তা আজও জানা হয়নি। জানা হয়নি কেন মুরব্বিগণ আমাকে ঘুম থেকে তুলেননি।

যাই হোক, শেষ রাতে ঘুম ভেংগে গেলে আশ্চর্যান্নিত হলাম, ভাবতে লাগলাম..আমি কোথায়? আমি বুঝতে পারছিলাম যে, আমি আমার শয়ণকক্ষে নেই, হঠাৎ চোখ পড়ল হযরত ফিদায়ে মিল্লাতের দিকে, সে কি নয়ন জুড়ানো দৃশ্য! হযরত যিকরে মশগুল। মনে হল রুমটা কেমন যেন এক অপার্থিব প্রশান্তিতে ভরপুর। হযরত ফিদায়ে মিল্লাতের আশ-পাশে এক অচেনা দ্যুতি ছড়িয়ে আছে, যে দ্যুতি অনুভব করেও অনুভবের উর্ধে। শিহরিত হল সমস্ত শরীর, নতুন করে এক অজানা ভালোবাসা প্রোথিত হল হ্রদয় মন্দিরে। অপলোক নেত্রে তাকিয়ে থাকলাম ফিদায়ে মিল্লাতের দিকে।

লেখক- কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক, বাংলদেশ জমিয়তুল উলামা 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *