পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বিশ্ব মানবতা আজ বিপন্ন, বিপন্ন মানব সভ্যতাও। সভ্যতার অগ্রগতির নামে সর্বত্র বিরাজমান অসভ্যাতা, বর্বরতা। চারদিকে সেক্যুলারিজমের জয় জয়কার, সেক্যুলার দৃষ্টিতে মানব সভ্যতার উন্নতির পথে ধর্ম যেন মহাঅন্তরায়। ধর্মের বাঁধন হতে মুক্ত হতে পারলেই যেন পাওয়া যাবে বাঁচার কোন স্বাদ। অথচ ধর্মের আগমন মানবতাকে পূর্ণতা দান করার লক্ষ্যে, ধর্মে শেখায় সঠিকভাবে বাচতে ও বাঁচাতে। সম্প্রীতি ও সহিষ্ণুতার পাঠও আমরা ধর্মের কাছ থেকেই পাই কোন ধর্ম কখনও সন্ত্রাসের কথা বলে না, সমাজে অশান্তির বাতাবরণ তৈরি করার শিক্ষা দেয় না।
এশিয়ার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি দারুল উলূম দেওবন্দের বাঙালি ছাত্রদের ‘আল কাসিম’ পত্রিকার সম্পাদকীয় পৃষ্টার বলিষ্ট এই ভাবনা দিয়েই পত্রিকার শুরু। পত্রিকার সম্পাদক কাজী মনজুর আলম তার প্রিয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে স্মৃতিমেদুর গদ্যে লিখছেন, ‘দারুল উলূম প্রাঙ্গণে হাঁটছি আর ভাবছি, এই সেই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানে যার ভিত্তি স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য ছিল উপমহাদেশ থেকে ইংরেজ শক্তির মূলোৎপাটন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক ইসলাম শিক্ষা দান। আল্লাহ তাআলা তাকে পরিপূর্ন সফলতা দান করেছেন।
দারুল উলূম এর ভিত্তিস্থাপন যুগে ফিরে তাকালে দেখা যাবে সিপাহী বিদ্রোহ তোর দেশের ভয়াবহ পরিস্থিতি। হাজার হাজার মুসলিম সংগ্রামী দেশকে স্বাধীন করার নিমিত্তে উক্ত বিদ্রোহ বুকের তাঁজা রক্তে দেশের মাটিতে সিঞ্চন করেছে এবং উলামা সমাজ নিয়ে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
মুসলিম সমাজে প্রচলিত সারারাত ব্যাপী ওয়াজ মাহফিল নিয়ে আব্দুল মতিন এর বাস্তববাদী প্রস্তাবনা সাধুবাদ এর যোগ্য তার মতে, অনুমানিক একটি পাড়ায় এমন জলসা বাবদ খরছ দাঁড়ায় ৬০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। ফায়দা স্বরুপ সেইদিন বক্তা ও বেশিরভাগ মানুষ ফজরের নামাজ কাজা করে, একটাও নতুন নামাজি পাওয়া যায় না সবাইকে এগিয়ে এসে ওয়জ মহফিলের এই ধরনের পরিবর্তন করতে হবে। আমরা ওয়াজ মাহফিল বিরোধী কেউ নয় তবে তা স্বল্প বাজেটের এবং মাগরিবের পর থেকে চার পাঁচ ঘন্টা পর্যন্ত হওয়াই বাঞ্ছনীয়।
পূর্ণ ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সবকিছুর মূল্যায়নে ভিন্নমতের প্রত্যাশা দুরূহ হলেও গোটা পত্রিকায় নীতি-নৈতিকতা ও সহাবস্থান সম্প্রীতির গান বারে বারে উচ্চারিত। দারুল উলূম দেওবন্দের বিপ্লবী ঐতিহ্য ও বর্তমানে তার অবস্থান জানা যায় এ পত্রিকার মাধ্যমে কলকাতায় ইসলামী সংস্কৃতির চর্চা ও বাংলা ভাষার প্রান্তিক অবস্থানকে মাঝপথে আনতে হলে অবশ্যই ভারতের সমস্ত মক্তব মাদ্রাসায় বাংলা ভাষাকে আরো বেশী গুরুত্ববহ করে তুলতে হবে এবং এই কাজে দেওবন্দ মাদ্রাসার বাঙালি ছাত্রদের এই প্রচেষ্টাকে অবশ্যই কুর্ণিশ জানাতে হ্য। ‘আল কাসিম’ পত্রিকার ভাবনার সঙ্গে ভবিষ্যৎ পত্রিকার ভাষা ও বানান নিয়ে আমরা খুবই আশাবাদী।
এছাড়াও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেছেন আলী হোসাইন, শরিফুল ইসলাম, আহসান হাবীব, মশিউর রহমান, আবু তাহের আরমান, আব্দুল্লাহ আল ফারুক প্রমুখ।
গ্রন্থনা : জাওয়াদুল কারিম


