অর্থনৈতিক প্রতিবেদক ● আন্তর্জাতিক বাজারে ফের ব্যারেলপ্রতি ৫০ ডলারের কাছাকাছি চলে এসেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। শনিবার নিউইয়র্কে পণ্যটি বিক্রি হয়েছে ৪৯ ডলার ৩৫ সেন্টে। আর লন্ডনে বিক্রি হয়েছে ৫২ ডলার ৫১ সেন্টে। যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ, উত্তোলন ও মজুদ কমে আসার খবর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার ঊর্ধ্বমুখী করেছে বলে জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা। খবর মার্কেটওয়াচ। ওঠানামার মধ্যে থাকা পণ্যটির দাম গত ২১ এপ্রিল ব্যারেলপ্রতি ৫০ ডলারের নিচে নেমেছিল। ওই দিন প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেল বিক্রি হয়েছিল ৪৯ ডলার ৬২ সেন্টে। পরবর্তী এক মাস ব্যারেলপ্রতি ৫০ ডলারের নিচে বিক্রি হয় পণ্যটি। সম্প্রতি ফের ব্যারেলপ্রতি ৫০ ডলারের কাছে চলে এসেছে পণ্যটি। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দরপতন শুরু হয় ২০১৪ সালের মাঝামাঝি থেকে। ওই সময় ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের উপরে বিক্রি হওয়া পণ্যটির দাম পরের আড়াই বছরে ৩০ ডলারের নিচে নেমে আসে। এমন অবস্থায় শীর্ষ তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক দাম বাড়ানোর লক্ষ্যে পণ্যটির উত্তোলন কমানোর চেষ্টা করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর গত বছরের শেষ দিকে সদস্যগুলোকে নিয়ে একটি ও অসদস্য আরো ১১ দেশ নিয়ে আরেকটি চুক্তি করে ওপেক। দুই চুক্তির ফলে দৈনিক ১৮ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন কমানো হয়। এর প্রভাবে গত বছরের শেষ দিকেই ব্যারেলপ্রতি ৫০ ডলারের উপরে পণ্যটি বিক্রি হয়েছিল।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়তি উত্তোলন, সরবরাহ, মজুদ ও আমদানির প্রভাবে কয়েক দিন পরেই ৫০ ডলারের নিচে চলে যায় পণ্যটির দাম। সর্বশেষ গত ৩০ মার্চ ব্যারেলপ্রতি ৫০ ডলারের উপরে উঠেছিল পণ্যটির দাম। তবে প্রায় ২০ দিন পর ফের দাম কমে আগের অবস্থানে চলে গিয়েছিল। নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (নিমেক্স) ব্যারেলে ২৮ সেন্ট দাম বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই)। জুনে সরবরাহ চুক্তিতে বুধবারের তুলনায় দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে এদিন প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআই বিক্রি হয় ৪৯ ডলার ৩৫ সেন্টে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে বিক্রি হচ্ছে পণ্যটি। অন্যদিকে লন্ডন ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে (আইসিই) ব্যারেলে ৩০ সেন্ট দাম বেড়েছে আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের। গত বৃহস্পতিবার এখানে দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট বিক্রি হয়েছে ৫২ ডলার ৫১ সেন্টে।
যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্যমতে, সর্বশেষ সপ্তাহে (১২ মে শেষ হয়) দেশটিতে পণ্যটির সরবরাহ কমেছে ১৮ লাখ ব্যারেল। তবে আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছিল সরবরাহ বৃদ্ধির।
অন্যদিকে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্লাটসের বিশ্লেষকরা ওই সপ্তাহে জ্বালাানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। এপিআইয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সর্বশেষ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ার কথা ৮ লাখ ৮২ হাজার ব্যারেল। অন্যদিকে ওই সপ্তাহে পণ্যটির সরবরাহ ২২ লাখ ব্যারেল কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্লাটসের বিশ্লেষকরা। এদিকে সর্বশেষ সপ্তাহে গত ১৩ সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমেছে। এ তথ্যটি পণ্যটির দাম বাড়াতে ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা। পাশাপাশি দেশটিতে কমছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাণিজ্যিক মজুদও।
জানা গেছে, সর্বশেষ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্যটির বাণিজ্যিক মজুদ ছিল ৩ কোটি ৪০ লাখ টন। নিমেক্সে গত বৃহস্পতিবার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সঙ্গে মিল রেখে দাম বেড়েছে গ্যাসোলিন ও হিটিং অয়েলের। এর মধ্যে গ্যাসোলিনের দাম বেড়েছে গ্যালনে ৩ দশমিক ৬ সেন্ট। জুনে সরবরাহ চুক্তিতে আগের দিনের তুলনায় দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিন বিক্রি হয়েছে ১ ডলার ৬৬ সেন্টে। অন্যদিকে গ্যালনে ১ দশমিক ২ সেন্ট দাম বেড়েছে হিটিং অয়েলের। গত বুধবারের তুলনায় দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি গ্যালন হিটিং অয়েল বিক্রি হয়েছে ১ ডলার ৫৪ সেন্টে।


