পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : প্রতিবারের ন্যায় এবারও পবিত্র রমজান মাসের পরিপূর্ণ বরকত লাভের আশায় ভারতের ঐতিহ্যবাহী ইলমী মারকাজ দারুল উলূম দেওবন্দের মসজিদে রশীদ ও ছাত্তা মসজিদে এখন থেকেই এতেকাফকারীদের আগমন শুরু হয়ে গেছে।
এ প্রসঙ্গে প্রসিদ্ধ আলেমে দ্বীন মাওলানা নাদীম ওয়াজেদী বলেন, রমজান রহমত ও বরকতপূর্ণ মাস। রাসূল সা. শাবান মাস থেকেই বলতেন, হে, লোকসকল! তোমাদের সামনে এমন এক রহমতও বরকতময় মাস আসছে, যে মাসের একটি রাত্র অন্য মাসের হাজারো রাত্রির তুলনায় শ্রেষ্ঠ।
তিনি রোজাদারদের ইফতার করানো ও তাদের খানা খাওয়ানোর উপর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করে বলেন, রমজান মাসে রোজাদারদের ইফতার করানো ও তাদের খানা খাওয়ানো অনেক বড় সওয়াবের কাজ। এমনকি রোজা রাখার সমান সওয়াব।
মাওলানা নাদীম ওয়াজেদী যুবকদের উদ্দেশ্য করে বলেন যে, ইসলামের শত্রুরা বিভিন্নভাবে ইসলামকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে। তাদের ফেতনা থেকে বাঁচতে সচেতন হওয়া জরুরী। এবং তাদের অপপ্রচার থেকে বাঁচতে রমজান মাসে বেশী বেশী দোয়া মোনাজাত অব্যাহত রাখো এবং আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করো। আর রাসূল সা.এর সুন্নাতের পাবন্দী করো।
মাওলানা ওয়াজেদী বলেন, রমজান মাসকে সমস্ত মাসের সর্দার বলা হয়েছে। এ মাসে প্রতিটি সওয়াবের প্রতিদান সত্তরগুন বাড়িয়ে দেয়া হয়। আল্লাহ তা’আলা বান্দাদেরকে যে সকল বড় বড় নেয়ামত দান করেছেন, রমজান মাস তার মধ্যে একটি। এ মাসে আল্লাহর খাছ রহমত ও বরকত নাযিল হয়। রমজান মাসে প্রত্যকটি ইবাদতের প্রতিদান যেভাবে বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। সেভাবে তাওবা ইস্তেগফারকারী বান্দাদেরকেও ক্ষমা করে দেওয়া হয়। এজন্য রমজানের প্রতিটি মূহুর্তের মূল্য দেওয়া উচিৎ। আল্লাহ তাআলা এ মহান মাসকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন। প্রথম ভাগে অজস্র ধারায় রহমত বর্ষণ করেন। দ্বিতীয় ভাগে গুনাহগারদের ক্ষমা করেন। তৃতীয় ভাগে জাহান্নামীদের মুক্তি দান করেন।
তিনি বলেন, রমজান মাস আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ উপহার। এ মাসে বেশী বেশী নেকী উপার্জনের মোক্ষম সুযোগ রয়েছে। এতদসত্বেও কিছু লোক এ মাসকে অবহেলায় কাটিয়ে দেয়। এবং বিভিন্ন গুনাহের কাজে লিপ্ত হয়। আমাদেরকে ঐ লোকদের নিয়েও ভাবতে হবে। এবং তাদের হেদায়েতের জন্য দোয়া করতে হবে। যারা রমজান মাস পাওয়া সত্বেও রোজা রাখে না তারা যেন আল্লাহ তাআলার সাথে বিদ্রোহ করলো। আল্লাহ তা’আলা বিদ্রোহীদের কঠিন শাস্তি দিবেন।
গ্রন্থনা : আহমাদ কাশফী


