পাথেয় রিপোর্ট : ফেনীর সোনাগাজীতে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় আগুনে পুড়িয়ে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত রাফি হত্যার ঘটনা নিয়ে কোনো নাটক-সিনেমা না বানানোর অনুরোধ জানিয়েছেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার।
এর আগে গত বুধবার নুসরাতকে নিয়ে সিনেমা বানানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন দেশের খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু। সিনেমার নামও তিনি রেখেছেন ‘নুসরাত’।
সিনেমা বানানো প্রসঙ্গে নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বলেন, “আমার মেয়ে আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়েছেন। শুনেছি আমার মেয়েকে নিয়ে অনেকে ওয়াজ ও গজল বানিয়েছেন। আরও বানাতে পারেন। কেউ কেউ নাকি আবার আমার মেয়েকে নিয়ে সিনেমা ও নাটক বানানোর প্রস্তুতিও নিয়েছেন। দয়া করে আমার মেয়েকে নিয়ে কেউ সিনেমা বা নাটক বানাবেন না”।
তিনি আরো বলেন, “নুসরাত শহীদ হয়ে গোটা বিশ্বের মানুষের মনে দাগ কেটেছে। সে কবরে চির নিদ্রায় শায়িত আছে। তাকে নিয়ে সিনেমা ও নাটক বানালে তার আত্মা কষ্ট পাবে। আমার মেয়ে একটি নিষ্পাপ ফুল। এই ফুলকে কষ্ট দিবেন না। আমরা অর্থের দিক দিয়ে গরিব হতে পারি; কিন্তু ধর্মের দিক দিয়ে আমরা গরিব নই। আমার মেয়েকে প্রথমে নুরানী মাদ্রাসায়, পরে মহিলা মাদ্রাসায় এবং সেখান থেকে দাখিল পাস করার পর সোনাগাজী মাদ্রাসায় ভর্তি করাই। নুসরাতের বাপ, দাদা, চাচা ও ভাই সবাই আলেম। দুনিয়াতে কিছু না পেলেও আখেরাতে আমার মেয়ে শহীদি মর্যাদা পাবে”।
বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা জীবিত অবস্থায় নুসরাতের খুনিদের বিচার দেখে যেতে চাই। তাহলে আমার মেয়েটির আত্মা শান্তি পাবে”।
নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, “আমাদের পরিবারের সাথে কয়েকজন চলচিত্র পরিচালক ও নাট্য পরিচালক যোগাযোগ করেছেন। আমাদের বাপ, দাদা, চাচা ও ভাইয়েরা সবাই আলেম উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা এতে রাজি নই”।
উল্লেখ্য, ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার মামলা করায় গত ৬ এপ্রিল নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে তার শরীরের ৭৫/৮০ ভাগ পুড়ে যায়। ঢাকা মেডিকেল হাসাপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন থাকা নুসরাত গত ১০ এপ্রিল মারা যান।


