পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ইসলামী মাসগুলোর নবম মাস হলো পবিত্র রমজান। এ মাস মুসলিম জাতির কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও পরম সৌভাগ্যের মাস। এ মাস মহান ত্যাগ ও তিতিক্ষার মাস, অসহায় দরিদ্র ও অভাবগ্রস্তদের মানসিক ব্যথা অনুধাবন করার মাস, ধৈর্য ও সংযমের মাস।
পবিত্র এই রমজান মাসে সংযমের ব্রত পালন করছে গোট মুসলিম বিশ্ব। কিন্তু যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের মানুষের জন্য এই পবিত্র মাসটিও খুব সুখকর নয়, শান্তিতে রোজা রাখতে পারছে না তারা। পবিত্র এই মাসে থেমে নেই ইসরায়েলি হামলা। প্রতিনিয়ত তাদের ওপর অমানবিক হামলা করে চলেছে ইসরায়েল। বরাবরই ফিলিস্তিনিদের প্রতি নিজের সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করে আসছেন জুভেন্টাসের উইঙ্গার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
এবার সরাসরি যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের মানুষদের পাশে দাঁড়ালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। রোজার মাসে ইফতারের জন্য ফিলিস্তিনিদের দেড় মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকা) দান করেছেন এই পর্তুগিজ সুপারস্টার।
এর আগেও ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে ভূমিকা রেখেছেন রোনালদো। দুস্থ শিশু ও অসহায় মানুষদের জন্য সব সময়ই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন বর্তমান ফুটবল বিশ্বের এই মহাতারকা। তিনি এর আগেও ২০১২ সালের নভেম্বরে পুরস্কার হিসেবে জেতা গোল্ডেন বুট (যা ইউরোপের বর্ষসেরা স্ট্রাইকার হিসেবে অর্জন করেছিলেন) নিলামে তুলেছিলেন। ওই নিলাম থেকে অর্জিত অর্থ তিনি ফিলিস্তিনের শিশুদের কল্যাণে ব্যয় করেন।। এবার ফিলিস্তিনিদের জন্য জুভেন্তাস তারকার এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছে ফুটবল বিশ্ব।
২০১৩ সালে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচে ইসরায়েল খেলোয়াড়ের সঙ্গে জার্সি বদলে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন সিআর সেভেন। তখন ওই ঘটনা নিয়ে খুব আলোচনা হয়েছিল। এছাড়া বিভিন্ন সময় যুদ্ধবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন রোনালদো।
শিশুদের প্রতি তার ভালোবাসার কথা সবাই জানে। ফিলিস্তিনিদের প্রতি রোনালদোর এমন ভালোবাসা প্রকাশের ঘটনা বিশ্ব মিডিয়ায় তেমন আলোচনায় আসে না। কিন্তু ফুটবল বিশ্বে তার এমন উদ্যোগ ঠিকই প্রশংসিত হচ্ছে। রমজান মাসে সৌদি আরব যখন ইয়েমেনে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, তখন ভিন্ন ধর্মী এক ফুটবল তারকার এমন উদ্যোগের প্রশংসায় মেতেছে মুসলিম বিশ্ব।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের জুন থেকে ফিলিস্তিনের গাজাকে স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে অবরোধ করে রেখেছে ইসরায়েল। এই অবরোধের কারণে ওই অঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে। চরম দারিদ্র্যের কারণে বহু মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এছাড়া কিছুদিন পরপর ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ফিলিস্তিনিদের মৃত্যু সেখানে অতি সাধারণ ঘটনা।


