পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পবিত্র ঈদুল ফিতরের সময় এবার মিয়ানমারে একটি ব্যতিক্রমধর্মী দৃশ্য দেখা গেছে। মিয়ানমারের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা ঈদের নামাজ পড়তে আসা মুসলিমদের গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
শান্তির প্রতীক সাদা গোলাপ দিয়ে মুসলিমদের শুভেচ্ছা জানান তারা। অথচ কট্টরপন্থী বৌদ্ধরা মাত্র তিন সপ্তাহ আগেই মুসলিমদের মসজিদে নামাজ পড়তে বাধা দিয়েছিল। এ ঘটনার পরই সাইনদিতা নামের এক মধ্যপন্থী বৌদ্ধ ভিক্ষু মুসলিমদের ফুল দেওয়ার উদ্যোগ নেন। মিয়ানমারের ২৩টি স্থানে রোজার সময় মুসলিমদের মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার ফুল বিতরণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, এই গোলাপ বিতরণ কর্মসূচির মাধ্যমে তারা জঙ্গিদের একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে। থেত সোয়ে উইন একজন তরুণ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এ প্রসঙ্গে জানান, সাদা গোলাপের মাধ্যমে আমরা জঙ্গিদের এই বার্তা দিতে চাইছি যে, তাদের অন্যায়, মিয়ানমারের অধিকাংশ নাগরিক সমর্থন করে না।
এর আগে মুসলিমরা নামাজ পড়তে বাধা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। তুন তুন সোয়ে নামের এক মুসলিম নাগরিক বলেন, যখন তারা আমাদের নামাজ পড়তে বাধা দিয়েছিল, তখন আমরা দুঃখ পেয়েছিলাম ও ক্রুদ্ধ হয়েছিলাম।
তবে এবার মুসলিমরা গোলাপ পেয়ে খুশি। তিন মিন্ট নামের আরেক মুসলিম নাগরিক বলেন, সাদা গোলাপ পেয়ে আমরা খুবই খুশি। রোজার সময় অনেক বৌদ্ধ সত্যিই আমাদের রক্ষা করেছে। তবে এই ঘটনার ফলে মিয়ানমার যে বদলে যাচ্ছে এমনটি ভাবা ঠিক হবে না। কারণ, সেখানকার মুসলিম সংখ্যালঘুরা রাষ্ট্রীয়ভাবেই নানা রকম বৈষম্য আর নির্যাতনের শিকার। মিয়ানমার মূলত বৌদ্ধ প্রধান দেশ এবং সেখানকার মাত্র ৪ শতাংশ মানুষ মুসলিম।
কিন্তু মিয়ানমার সরকার তাদের নাগরিক বলে স্বীকার করতে চায় না। মিয়ানমারের প্রশাসন ও কট্টর বৌদ্ধ ধর্মবলম্বীরা তাদের ওপর বিভিন্ন সময়ে নানা নির্যাতন চালিয়ে আসছে।
ব্যাপক সামরিক নির্যাতনের মুখে ২০১৭ সালের মাঝামাঝিতে ৭ লাখের বেশি মুসলিম দেশ ছেড়ে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। এর আগে থেকেই এখানে অবস্থান করছে ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা।
বাংলাদেশের অর্থনীতি এত বিপুল সংখ্যাক শরণার্থীর ভারে ন্যুজ হয়ে পড়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার বারবার এসব শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানালেও মিয়ানমার এতে সাড়া দিচ্ছে না।


