নিজের ওজন পাল্লায় মেপে সমালোচনা করুন
বিবেক জাগ্রত হোক জ্ঞানপাপীদের
মাওলানা আমিনুল ইসলাম : আপনি কার বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন? আপনার বয়স কত? আপনার যোগ্যতা কী? লোক সমাজে আপনার গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু?
বন্ধু, আপনাকে হেয় করতে চাই না। মানুষের সামনে আপনাকে নাঙা করতে চাই না। আপনি হয়ত মানুষকে সম্মান দেখাতে জানেন না। তবে আমরা কাউকে অসন্মান করি না। কোন আলেমকে, এমন কি কোন মুসলমানকে বেইজ্জতি করার মন মানসিকতা আমাদের নেই।
আপনার কাছে আল্লামা ফরীদ মাসঊদ এবং মুফতী ফয়জুল করীম সাহেবদ্বয় ইজ্জতওয়ালা না হলেও, আমাদের কাছে তারা সম্মানিত। এদেশের লক্ষ কোটি জনতার কাছে তারা প্রিয়।
আপনি কিভাবে মু্ফতি ফয়জুল করীম এবং আল্লামা মাসঊদকে বাতিল গ্রুপের সাথে তুলনা করেছেন? আপনি কোন দলীলের ভিত্তিতে এদেশের আলেম এবং হক্কানী পীর সস্পর্কে কলম ধরেন?
অথচ আপনার সুরত- সিরাতে আপনি একজন আলেম। আপনি একটা মাদ্রাসায় হাদীসের দরস দিয়ে থাকেন। একজন আলেম হয়ে, আরেকজন আলেমের বিরুদ্ধাচারণ করা এটা যে কত শিষ্টাচার বহির্ভূত সেটা আপনার অজানা নয়।
মুফতি ফয়জুল করীমকে আপনার কাছে আলেম মনে হয় না। তাঁকে মূর্খ মনে করেন।
তাহলে বলুন তো, আপনার কতটুকু যোগ্যতা আছে। আমরা জানি, আপনি মফস্বলের একটা মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। আপনার বয়স সর্বোচ্চ তিরিশ। আপনার ইলমের দৌড় কমবেশী সকলের জানা আছে।
আপনি এত বড় আলেম, তাহলে ঢাকা শহর ছেড়ে মফস্বলের অখ্যাত জায়গায় কেন? আপনি এত বড় যোগ্যতাবান, তাহলে আপনার সিলেট বিভাগ ছেড়ে ফরিদপুর ব্লকে কেন?
আপনি যে ইলমের বড়াই দেখাচ্ছেন, আপনার তো ঢাকা শহরের কোন মাদ্রাসার শায়খুল হাদীস পদে থাকা উচিত ছিল!!! এই অজপাড়া গায় আপনার থাকা তো ঠিক হয়নি।
আপনি মুফতী ফয়জুল করীমের সমালোচনা করেন, তাঁর সমালোচনা তো লা -মাজহাবী মতিউর রহমান মাদানী করে থাকে। ফয়জুল করীম সাহেবের সমালোচনা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী করে থাকে। তাহলে আপনি কি মতিউর রহমান মাদানীর আশির্বাদপুষ্ট? আপনি কি এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর সোহবাতপ্রাপ্ত?
একটা কথা ভাল করে জানা থাকা উচিত, পাহাড়ের সাথে কেউ যদি মাথা নিয়ে গুতোগুতি করে, তাহলে পাহাড়ের কোন ক্ষতি হয় না। বরং যিনি মাথা দিয়ে গুতোয়ে থাকেন, তার মাথার কোন চিহ্ন পাওয়া যায় না।
আপনি কিন্তু পাহাড়ের সাথে মাথা গুতাচ্ছেন। এই বয়সে বড় বড় হাস্তিদের সংঘর্ষে জড়িয়ে অনিশ্চয়তার পথে পা বাড়াবেন বলে মনে করি না।
ফয়জুল করীম সাহেব একজন প্রতিভাবান আলেম। তাঁর যোগ্যতা আর আমল- আখলাক কারো অজানা নয়। তিনি যে গদ্দিনীশীন তাও নয়।
চরমোনাই এর খানকা অন্যান্য খানকার মত নয়। এই খানকায় আলেম উলামার এক বড় জামাত রয়েছে। ফয়জুল করীম সাহেব নিজ ক্ষমতার বলে চরমোনাই এর নায়েবে আমীর হননি। বরং মরহুম ফজলুল করীম সাহেবের অবর্তমানে তাঁর খুলাফাগণ পরামর্শের ভিত্তিতে তাঁকে নায়েবে আমীর হিসেবে নিযুক্ত করেছেন।
এজন্য বল্গাহীন কথা বলা ঠিক নয়। তাঁর সম্পর্কে পুরোপুরি না জেনে কথা বলা অনুচিত।
তিনি একদম অযোগ্য হলে বুখারী শরীফের দরস দিতেন না। তাঁর কথা বেঠিক হলে আলেমদের সাপোর্ট পড়ত না।
আপনি তো আর বুখারী পড়ান না। আপনার দৃষ্টিতে ফয়জুল করিম অযোগ্য হলে, তাহলে আপনার স্থান কোথায়? সেটা কি ভেবে দেখেছেন?
আর আল্লামা ফরীদ মাসঊদ সম্পর্কে আর কি বলব। এ যাবত কালের দারুল উলুম দেওবন্দের উল্লেখযোগ্য একজন ছাত্র। ফরীদ সাহেবের ইলম আর জ্ঞান শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বময় তাঁর খ্যাতি। ফেদায়ে মিল্লাত আসআদ মাদানীর খলিফা তিনি। একজন বিশ্ব বিখ্যাত স্কলার তিনি।
ফরীদ সাহেব কত বড় আলেম, সেটা জানতেন এদেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম, যুগ শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস আল্লামা কাজি মু’তাসিম বিল্লাহ রহ.। যে কাজি সাহেবকে যমের মত ভয় পেত বাতিল শক্তি। সেই কাজি সাহেব সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন, ফরীদ উদ্দিন মাসঊদ আমার উস্তাদতুল্য ছাত্র।
ফরীদ মাসঊদ সাহেবকে চিনতেন এদেশের শীর্ষ আলেমগণ। যার ইলম আর যোগ্যতার ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন ইশকাল করতে পারেনি।
বর্তমানে ফরীদ সাহেবকে চেনে বিশ্ব বিখ্যাত ইসলামী স্কলারগণ। তাঁকে ভাল করে চেনেন এবং জানেন পাকিস্তানের আল্লামা তকি উসমানী। ফরীদ সাহেব কত বড় আলেম,সেটা জানেন, সৌদি আরবের আব্দুর রহমান সুদাইসি।
আপনি তিরিশ বছর বয়স নিয়ে, মফস্বলের একজন হুজুর হয়ে বিশ্ব বিখ্যাত ইসলামী স্কলারের বিরুদ্ধে কলম ধরেন, সেটা ভাবতে অবাক লাগে।
কেননা, আপনার মত শত শত এ ধরনের মানুষ কিন্তু ফরীদ সাহেবের ব্যাগ টানার জন্য বসে আছে। কিন্তু তাদের নসীবে জুটছে না।
জনাব, এত অল্প বয়সে পাকামি কিন্তু ভাল নয়। দেশের একজন শীর্ষ হক্কানী আলেম পীর এবং বিশ্ববিখ্যাত আলেমকে ব্যঙ্গ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নিজেকে সেলিব্রিটি মনে করবেন না।
আপনি ফয়জুল করীম সাহেবের শানে ব্যঙ্গ করে লকব লাগায়েছেন” আমীরুল মোগাহিদীন”।
আপনি কওমী মাদ্রাসায় পড়ুয়া। কওমীতে পড়ে আলেম উলামার শানে ব্যঙ্গাত্মক শব্দ ব্যবহার করতে কি আপনার বিবেকে বাঁধা দিল না?
এখন যদি আপনাকে কোন লকব দিয়ে দেই? সেটা কি ভাল দেখাবে?
আপনার পূর্বের একটা লিখনী পড়লাম, সেখানে দেওবন্দে পড়ুয়াদের নিয়ে ফতুয়াবাজি করেছেন।
দেখুন! ভিসা ছাড়া দেওবন্দে পড়াটাকে আমরাও সমর্থন করি না। তবে এভাবে বলাটা ঠিক হল না। কেননা, দেওবন্দ আমাদের মাদারে ইলমী। মায়ের কাছে সন্তান যাওয়ার জন্য একটু পাগলপাড়া হবেই। আর দেওবন্দের যে কি অবদান সেটা তো আপনার ভালই জানা আছে।
আপনি কিন্তু ভিসা ছাড়া পাকিস্তানে পড়া যাবে না, সেটা উল্লেখ করেননি। অথচ বহু ছাত্র ভিসা ছাড়া পাকিস্তানে পড়াশোনা করে আসছে। আবার লেখা পড়ার নাম দিয়ে পাকিস্তানে গার্মেন্টেসে চাকরী করে খাচ্ছে। সে ব্যাপারে কিছু বলা উচিত ছিল।
তাহলে কি ভিসা ছাড়া পাকিস্তানে লেখাপড়া করলে আপনি খুশি হন?
পরিশেষে আপনার বিবেক জাগ্রত হোক। আল্লাহ আপনার সুমতি দান করুক। এই কামনা করি।
আল্লাহ আমাদের সকলকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।
লেখক : শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক


