পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সৌদি আরবের আবহা বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় বেসামরিক বিমানবন্দরে রোববার ইয়েমেন বিদ্রোহীদের হামলায় সিরিয়ার এক নাগরিক নিহত এবং অন্তত ২১ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।
রিয়াদ নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এ কথা জানায়।
বিবিসি জানায়, ইরান মদদপুষ্ট হুতি মিলিশিয়ারা আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। প্রতিদিন এ বিমানবন্দর দিয়ে হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক যাতায়াত করে।
সৌদি আরবের সরকারি বার্তা সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি পরিবেশিত জোটের বিবৃতিতে বলা হয়, ওই হামলায় সিরিয়ার এক নাগরিক নিহত ও বহু বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছে।
কীভাবে এ বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়েছে সৌদি সামরিক জোট সে ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে ইরান মদদপুষ্ট হুতি বিদ্রোহীরা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে চলতি মাসে বেসামরিক বিভিন্ন স্থাপনায় বারবার হামলা চালায়।
রোববার বিদ্রোহীদের আল-মাসিরাহ টিভি জানায়, তারা ড্রোন ব্যবহার করে সৌদি আরবের দক্ষিণের আবহা ও জিজান বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। আবহা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলার পর বিমান চলাচল ফের শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
গত ১২ জুন আবহা নগরীর এ বিমানবন্দরে বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২৬ বেসামরিক নাগরিক আহত হয়। এ ঘটনায় জোটের পক্ষ থেকে ‘কঠোর পদক্ষেপ’ গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়।
হিউম্যান রাইট ওয়াচ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আবহা শহরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদ্রোহীদের মিশাইল হামলায় ২৬ বেসামরিক ব্যক্তির আহতের ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধের শামিল বলে নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি বেসামরিক স্থাপনায় অবিলম্বে বিমান হামলা বন্ধের জন্য হুতি বিদ্রোহীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরানি মদদপুষ্ট হুতি বিদ্রোহীরা ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটির সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্ট আব্দে রাব্বি মানসুর হাদিকে ক্ষমতাচ্যুত করে। পরে আব্দে রাব্বি মানসুর দেশ ছেড়ে পালিয়ে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে চলে যান।
এরপর ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে সৌদি সামরিক জোট। জাতিসংঘ জানায়, গত চার বছর ধরে চলা এ যুদ্ধে অন্তত ছয় হাজার ৮০০ বেসামরিক লোক নিহত ও সাড়ে ১০ হাজারেরও বেশি আহত হয়েছেন।
সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে সৌদি শহরগুলোতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইরানের মিত্র হুতিরা।


