গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে

গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে

গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মধ্যবিত্ত কীভাবে বাঁচবে? এ প্রশ্ন সবাই করছেন। ঘুরে ফিরে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির এই প্রতিযোগিতা সাধারণ মানুষের জীবন যে অসহনীয় করে তুলবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আবাসিক ও বাণিজ্যিকসহ সব শ্রেণীর গ্রাহকের গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। গড়ে দাম বৃদ্ধির পরিমাণ ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ।

আবাসিকে এক বার্নার চুলার জন্য গ্রাহককে এতদিন যেখানে ৭৫০ টাকা দিতে হতো, সেখানে এখন দিতে হবে ৯২৫ টাকা এবং দুই বার্নার চুলার জন্য যেখানে দিতে হতো ৮০০ টাকা, সেখানে দিতে হবে ৯৭৫ টাকা।

যানবাহনে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটার ৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৩ টাকা করা হয়েছে। অন্যান্য খাতে দাম বৃদ্ধির হারও উল্লেখযোগ্য। দাম বৃদ্ধির এ সিদ্ধান্ত ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হয়েছে।

গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে ভোক্তাদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হবে, সন্দেহ নেই। দাম বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব পড়বে গৃহস্থালি, পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে।

এমনিতেই এবারের বাজেটে নিত্যপণ্যের ওপর ভ্যাটসহ বাড়তি কর আরোপের ফলে বেশকিছু পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার চাপে রয়েছে সীমিত আয়ের মানুষ, তার ওপর গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাবে নিশ্চিত।

গ্যাসের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি দেশের শিল্প খাতকে বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলোর নেতারা। শিল্পকারখানায় গ্যাস ব্যবহার করে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের (ক্যাপটিভ পাওয়ার) ক্ষেত্রে আগে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসে খরচ হতো ৯ টাকা ৬২ পয়সা। এখন খরচ হবে ১৩ টাকা ৮৫ পয়সা।

এতে স্বভাবতই দেশের রফতানিমুখী শিল্পের উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। ফলে কমবে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা। পাশাপাশি বাধাগ্রস্ত হবে নতুন বিনিয়োগ। এসব বিষয় সরকারের বিবেচনায় থাকা উচিত।

গ্যাসের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা থাকা দরকার বলেই আমরা মনে করি। নীতিমালার বিষয়টি নিশ্চিত করা গেলে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা নেয়া সহজ হয়। দুর্নীতি রোধ করেও গ্যাসের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব। অতীতে অনেক সম্ভাবনাময় ব্লক দেশীয় এজেন্টদের কারসাজিতে অদক্ষ ও অনভিজ্ঞ বিদেশি কোম্পানিগুলোর কাছে ইজারা দেয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে দেশি ও আন্তর্জাতিক চক্রগুলোর স্বার্থের নিগড়ে বাধা পড়েছে দেশের গ্যাস খাত। আর এর চড়া মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তা ও শিল্প মালিকদের। এ অবস্থায় ঘনঘন গাসের দাম না বাড়িয়ে চাহিদা অনুসারে সব জায়গায় গ্যাস সরবরাহের প্রতি মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *