পাথেয় রিপোর্ট : ভারতে মুসলমানদের উৎখাতের ষড়যন্ত্র হচ্ছে জানিয়ে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী বলেছেন, বৃটিশ পরাধীনতার নাগপাশ থেকে সমগ্র ভারত বর্ষকে স্বাধীন করার লড়াইয়ে মুসলমানরাই সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ ও প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, যে মুসলমানদের রক্তের সিঁড়ি বেয়ে ভারত স্বাধীন হয়েছে, আজ ভারতে সেই মুসলমানদেরকেই নিপীড়নের শিকার এবং উৎখাতের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এর চেয়ে বড় গাদ্দারি, নিমকহারামি ও জুলুম আর কিছু হতে পারে না।
বৃহস্পতিবার (৫ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ভারতে মুসলমানদের ইবাদত-বন্দেগী ও ধর্ম পালনে বাধাদান, নাগরিক পঞ্জির নামে মুসলিম উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র এবং হিন্দুত্ববাদি স্লোগান ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করাসহ বহুমুখী সাম্প্রদায়িক হামলা ও নিপীড়নের প্রতিবাদে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচীতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব বলেন, ভারতের হিন্দুত্ববাদি বিজেপি ও গোরক্ষকরা অত্যন্ত জঘন্য কায়দায় মুসলমানদের ওপর বর্বরোচিত সাম্প্রদায়িক হামলাসহ তাদের মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার হরণ করছে প্রতিনিয়ত। প্রকাশ্য রাজপথে উল্লাস নৃত্য করে মুসলমানদেরকে পিটিয়ে খুন করা হচ্ছে।
এমনকি তাদের নাগরিকত্ব হরণের মতো ধৃষ্টতামূলক ষড়যন্ত্রে ভারত সরকার জড়িয়ে পড়েছে। আমরা এসব মানবতাবিরোধী নিষ্ঠুর আচরণের নিন্দা জানাই এবং অনতিবিলম্বে এসব বন্ধের দাবি জানাই।
মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, আমরা বাংলাদেশের মুসলমানরা ভারতের নির্যাতিত মুসলমানদের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছি। ভারতের মুসলিম নিপীড়ন ও মানবাধিকার হরণ বন্ধে আমরা বাংলাদেশ সরকারের জোর কূটনৈতিক তৎপরতার দাবি জানাই। পাশাপাশি জাতিসংঘ, ওআইসি’সহ বিশ্বসম্প্রদায়ের প্রতিও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নিতে উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।
মানববন্ধনে জমিয়তের অন্যান্য নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সহ-সভাপতি বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, যুগ্মমহাসচিব মাওলানা ফজলুল করীম কাসেম, প্রচারসম্পাদক মাওলানা জয়নুল আবেদীন, দপ্তর সম্পাদক মাওলানা আব্দুল গাফফার, ঢাকা মহানগর সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা বশিরুল ইসলাম খাদিমানী, মাওলানা কলিমুল্লাহ, মাওলানা গোলাম মাওলা, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা এখলাছুর রহমান, ছাত্র নেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ, মাহফুজুর রহমান, আতাউর রহমান, বশির আহমদ প্রমুখ।


