মাহমুদ এলাহী : হজ একটি কঠিন ইবাদত। একে জিহাদের সাথেও তুলনা করা হয়েছে। এ কারণে এতে ছওয়াবও বেশি এবং উপকারিতাও অনেক। বিধানগত দিক থেকে হজ আদায় করা সহজ, কিন্তু যেহেতু এর জন্য সফর করতে হয় এবং পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জমায়েত বিশেষ বিশেষ স্থানে একসাথে এই ইবাদত আদায় করে থাকে তাই তা কঠিন ও কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণে অনেক মানুষের আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও শারীরিক অক্ষমতার কারণে তা আদায়ের সামর্থ্য থাকে না। এ ধরনের মাজুরদের প্রতি মেহেরবানী করে আল্লাহ তাআলা বদলী হজ্বের অবকাশ দান করেছেন।
বদলী হজ্বের নাম শুনলেই অনেকে মনে করতে পারেন তা আদায়ের জন্য বোধ হয় আলাদা কোনো নিয়ম আছে। তা ঠিক নয়। যেভাবে নিজের হজ্ব আদায় করা হয় সেভাবেই বদলী হজ্বও আদায় করা হয়। পার্থক্য শুধু এইটুকু যে, নিয়ত ও তালবিয়ার সময় বদলী হজ্বে প্রেরণকারীর পক্ষ থেকে হজ্বের নিয়ত করা হয়। এরপর হজ্বের সকল কাজ এক ও অভিন্ন।
যারা অন্যের হজ আদায় করেন, তারা সাধারণত হজে ইফরাদ তথা শুধু হজ আদায় করেন। এখন যারা বদলি হজ আদায় করতে পবিত্র নগরী মক্কায় যান কিংবা ইতিমধ্যে যারা বদলি হজ আদায়ে মক্কা বা মদিনায় পৌছেছেন; তারা কি হজে তামাত্তু বা কিরান কিংবা ওমরা পালন করতে পারবেন? এ প্রসঙ্গে ইসলামের বিধানই বা কি?
কারণ যারা বদলি হজ করেন, তাদের নিয়োগকর্তাই তাদের হজের যাবতীয় খরচ বহন করে থাকেন। আর বদলি হজকারীও হজের সব কাজ স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন করবেন।
হ্যাঁ, যারা বদলি হজ আদায় করবেন, তারা তামাত্তু বা কিরান হজ আদায় তথা ওমরাও করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে করণীয় হলো- যিনি বদলি হজকারীর খরচ বহন করবেন, তাঁর অনুমতি লাগবে। যদি তিনি অনুমতি প্রদান করেন তবে বদলি হজকারী তামাত্তু ও কিরান হজও আদায় করতে পারবেন। ওমরা পালন করতে পারবেন।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব বদলি হজকারীদেরকে সঠিকভাবে হজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। অনুমতি সাপেক্ষে তামাত্তু, কিরান কিংবা হজ পরবর্তীতে ওমরা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।


