নিজস্ব প্রতিবেদক ● আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই অনলাইন গণমাধ্যমের নীতিমালা মন্ত্রিপরিষদ সভায় উত্থাপিত হবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআইবি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
স্টেট অব জার্নালিজম ইন বাংলাদেশ উইদিন দ্য কনটেক্সট অব ফ্রিডম অব এক্সপ্রেসন শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ইউনেস্কোর বাংলাদেশ সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট, জার্নালিজম অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিসিডিজেসি)।
মন্ত্রী বলেন, দেশের অনলাইন গণমাধ্যমগুলোকে নথিভুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলাম। ইতোমধ্যে প্রায় ১ হাজার ৮০০ অনলাইন গণমাধ্যম নথিভুক্ত হওয়ার আবেদন করেছে। এর বাইরেও অনেক অনলাইন গণমাধ্যম রয়েছে। ইন্টারনেট প্রটোকল টিভির (আইপিটিভি) বিষয়ে আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি, এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। কিন্তু অনেক আইপি টিভি চালু রয়েছে।
অনলাইন গণমাধ্যমগুলোর বেশিরভাগই কোনো নিয়ম নীতির ধার ধারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা যা ইচ্ছে তাই লেখে। সেজন্য এত অনলাইনের ভিড়ে মাত্র ৩৫টা অনলাইন গণমাধ্যম সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে।
গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের কাজে সরকার হাত দিয়েছে। অপ্রয়োজনীয় বিষয়গুলো বাতিল করা হচ্ছে। পুরো আইনি কাঠামো পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। আমরা সম্প্রচার নীতিমালা তৈরি করছি। অনলাইন গণমাধ্যমেরটা একটু দেরি হচ্ছে। তবে, আগামঅ ১৫ দিনের মধ্যেই অনলাইন গণমাধ্যমের একটা নীতিমালা মন্ত্রিপরিষদ সভায় উঠবে।
অংশীদারদের মতামতের ভিত্তিতেই গণমাধ্যমের নীতিমালাগুলো বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের কাছ থেকে গণমাধ্যম হুমকিতে আছে বলে আমি মনে করি না। গণমাধ্যমকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করতে গিয়ে কোনো গণমাধ্যমই সেই অর্থে চাপের মধ্যে নেই।
গণমাধ্যম বর্তমানে সরকারের দুর্নীতি নিয়ে লিখতে পারে, কোনো প্রকল্পে সমস্যা রয়েছে লিখতে পারে, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সমালোচনা করতে পারছে।
গণমাধ্যমকে আইনের মধ্যেই থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণমাধ্যমের সাংঘর্ষিক কোনো আইন যেন পার্লামেন্টে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখা হবে। সাংবাদিকদের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করে নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে।
সাইবার ক্রাইম বন্ধে সাইবার প্রতিরোধ আইন নামে একটা খসড়া তৈরি করা হচ্ছে। এই আইনটা বাজারে চলে আসলে আইসিটি অ্যাক্ট নামে যে আইনটা রয়েছে সেটা বাতিল হয়ে যাবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের যে বিস্ফোরণ ঘটেছে, একইসঙ্গে মিথ্যা সংবাদেরও বিস্ফোরণ হচ্ছে। এই
পরিস্থিতিতে তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতার চাহিদা বেড়ে গেল। প্রত্যেক সাংবাদিককে তথ্যভিত্তিক সংবাদ সংগ্রহের যোগ্যতা থাকতে হবে, নয়তো গণমাধ্যমের পবিত্রতা নষ্ট হবে।
আলোচনা সভায় একটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন,ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ জে এম সফিউল আলম ভূঁইয়া। ৫৫ জন সাংবাদিকের উপর গবেষণা করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সভায় বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, পিআইবির মহাপরিচালক শাহ আলমগীর, একুশে টিভির সিইও মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন প্রমুখ।


