বন্ধ হোক মাদক প্রবেশের পথ

বন্ধ হোক মাদক প্রবেশের পথ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মাদকের পথ সম্পর্কে এখন প্রশাসন নিশ্চয়ই ওয়াকিফহাল। এ পথের অলিগলি অভিযানের আওতায় আনা জরুরি। পথ বন্ধ করতে পারলে দেশর সামাজিক সচেতনতামূলক কাজ করা সম্ভব। মাদক যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে বাংলাদেশের তরুণসমাজের অবক্ষয় চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। মাদকের বিস্তৃতির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে অন্যান্য অপরাধও। মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য বিস্তারসহ নানা কারণে বাড়ছে খুনাখুনি। মাদকের অর্থ সংগ্রহের জন্য তরুণরা চুরি-ডাকাতিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

আবার সুযোগসন্ধানীরা সামান্য অর্থের বিনিময়ে মাদকাসক্তদের দিয়ে নানা অপরাধ করিয়ে নিচ্ছে। জানা যায়, বরগুনায় বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকা-ের পেছনেও রয়েছে মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ। বন্দুকযুদ্ধে নিহত সন্দেহভাজন হত্যাকারী নয়ন বন্ড ও শরীফ একসময় একই দলে থেকে মাদকের কারবার করতেন। পরে তাঁদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয় এবং নয়ন কৌশলে তাঁকে পুলিশে ধরিয়ে দেন। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তিনি নয়নকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। তাঁকে মদদ দেন এমপিপুত্র সুমনের এক সহযোগী। তার আগেই নয়ন গ্রুপ শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে।

মাদক কারবারের এ রকম ভয়ংকর চিত্র কমবেশি সারা দেশেরই। এর আগে পত্রপত্রিকায় এ ধরনের অনেক খবরই এসেছে। অনেক জায়গায় প্রকাশ্যে মাদকের হাট বসে। পুলিশ সেসব দেখেও না দেখার ভান করে এবং হাটের বখরা গোপনে তাদের কাছে পৌঁছে যায়। মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অনেক পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তারও হয়েছেন। বরগুনার পুলিশের বিরুদ্ধেও এ ধরনের অভিযোগ রয়েছে। আরো ভয়ংকর খবর হচ্ছে, টেকনাফ থেকে সড়কপথে মাদক পরিবহন কঠিন হয়ে পড়ায় এখন সাগরপথে মাদক, বিশেষ করে ইয়াবা টেকনাফ থেকে বরগুনা ও পটুয়াখালী আসে। তারপর সেখান থেকে বিভিন্ন পথে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

গত ২ এপ্রিল ঢাকায় সপ্তবর্ণা-১ লঞ্চ থেকে প্রায় সাড়ে আট লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছিল র‌্যাব। লঞ্চটি বরগুনা-ঢাকা রুটে চলাচল করে এবং চালানটিও এসেছিল বরগুনা থেকে। সে সময় গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন জানিয়েছিলেন আগেও তাঁরা ইয়াবার চালান নিয়ে ঢাকায় এসেছেন। আর বরগুনায় মাদক চোরাচালানের গডফাদার হিসেবে যাঁরা পরিচিত তাঁরা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত ক্ষমতাশালী। প্রশাসন তাঁদের ঘাঁটাতে যায় না বলেই সাধারণ মানুষও তাদের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলে না।

গত শুক্রবার ভোরেও নাফ নদের জালিয়ারদিয়া এলাকায় ইয়াবার একটি বড় চালান ধরা পড়েছে। কোস্ট গার্ড একটি নৌকাকে চ্যালেঞ্জ করলে নৌকায় থাকা কয়েকজন নদে ঝাঁপ দিয়ে মিয়ানমারের দিকে চলে যায়। পরে নৌকাটি থেকে সাত লাখ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। দেশের তরুণসমাজকে রক্ষা করতে হলে ইয়াবার চোরাচালান সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে। মিয়ানমারের সঙ্গে স্থলসীমান্তে কঠোর প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে হবে। সমুদ্রপথে কোস্ট গার্ড, বিজিবির টহল আরো বাড়াতে হবে।

আমরা আশা করবো, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে গডফাদারদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *