হজের সফরে বাংলাদেশী আলেমদের মিলনমেলা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত : আল্লামা মাসঊদ

হজের সফরে বাংলাদেশী আলেমদের মিলনমেলা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত : আল্লামা মাসঊদ

হজের সফরে বাংলাদেশী আলেমদের মিলনমেলা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত : আল্লামা মাসঊদ

পাথেয় রিপোর্ট : চলতি বছরে হজ্বের সফরে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের মিলনমেলা এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম ও বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

তিনি বলেন, দলমত, আকীদাগত সব ভেদাভেদ ভুলে বাংলাদেশের উলামায়ে কেরামের এই মিলনমেলা নিঃসন্দেহ আল্লাহর এক মহান ইচ্ছার প্রতিফলন। দেশের মাটিতে যাদের মধ্যে পারস্পরিক বিভেদ লেগেই থাকতো, একে অপরকে কাফের ঘোষণা করতো, গুমরাহ্ বলতো, আল্লাহ মেহেরবানীতে তাঁরা সকলেই ঐকবদ্ধভাবে পবিত্র মক্কা, মদীনা, মীনা, মুজদালিফার মত পবিত্রতম স্থানে একসঙ্গে ছিলেন। একই তাবুতে ছিলেন। কোনো উচ্চবাচ্য হয়নি,গালিগালাজ হয়নি বরং একে অপরকে ভালবেসে খেদমতের প্রতিযোগিতা শুরু করেন।
শুক্রবার দুপুরে খিলগাঁও ইকরা কমপ্লেক্সে পবিত্র জুমার আগের বয়ানে আল্লামা মাসঊদ এসব কথা বলেন।

আল্লামা মাসঊদ সরকারের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশ সরকারের অনেক ক্রুটি-বিচ্যুতি থাকতে পারে। কিন্তু, সক আলেমদের এই প্লাটফরম তৈরী করে দেওয়া নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। শোকের মাসেও স্বাধীনতার পক্ষের বিপক্ষের তাদেরকেও ঐকবদ্ধ করা অবশ্যই বাংলাদেশ সরকারের জন্য গর্বের বিষয়।

আল্লামা মাসঊদ সফরেরস্মৃতিচারণ করে বলেন, আল্লাহ তা’আলার মেহেরবানী, ফযল ও করম যে আমাকে বিগত রমজানে মক্কার সফরে পবিত্র কা’বা শরীফের অভ্যন্তরে প্রবেশের তাওফিক দান করেন। এবারের সফরে পবিত্র মদীনা শরীফকে সামনে রেখে হাদীসে মুসালসালাতের দরস দেওয়ার তাওফিক দান করেন। আমাকে আমার উস্তাদ শাইখুল হাদীস জাকারিয়া রহঃ হাদীসে মুসালসালাতের সবক দেন। মক্কা-মদিনার আলেমগন জেনে খুশি হয়ে আমার থেকে সনদ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাঁদের বিপুল আগ্রহ দেখে আমি আসরের নামাজের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে এশা পর্যন্ত মাগরিবের বিরতি দিয়ে হাদীসে মুসালসালাতের দরস প্রদান করি। দরসে আরব, মিশর, লেবানন, মরক্কো, ইন্দোনেশীয়া, ভারত, বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশের আলেম ওলামাগণ অংশগ্রহণ করেন।

তিনি সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রশংসা করে বলেন, রওযাতুম মিন রিয়াজিল জান্নাহ্ কে সামনে রেখে ইবাদত করতে চাইলে সাধারণত মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। কিন্তু, এবার তেমন হয়নি। বরং, উলামায়ে কেরামের জামাতকে বিশেষ মর্যাদা দিয়ে রওযাতুম মিন রিয়াজিল জান্নাহ- এর মধ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। এবং ১৫ মিনিট সেখানে অবস্থান করে ইবাদতের সুযোগ দেওয়া হয়।

গ্রন্থনা : আহমাদ কাশফী

সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *