বাসভাড়া নৈরাজ্য বন্ধ হোক

বাসভাড়া নৈরাজ্য বন্ধ হোক

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বাসভাড়া নিয়ে পথে একধরনের নৈরাজ্য চলছে। হেলপার, চালক আর সুপার ভাইজার মিলে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে তা থেকে জনগণকে সবার আগে রেহাই দিতে হবে। তা না হলে দেশের জনগণ আগের সেই অবস্থাতেই থেকে যাবে। এখনো সেই কঙ্কার সাড় বাস পথে দেখা যায়। জামা ছিড়ে যায়।

সাপার ভাইজারকে বললে, তারা ভয়ঙ্করভাবে তেড়ে আসে। এসবের সমাধান হয়নি এখনো। সিটিং সার্ভিসের নামে চলমান নৈরাজ্যের কোনো বুকপিঠ নেই। এদের জুলুমের সীমান ছাড়িয়ে গেছে অনেক আগেই। মূলত কাগজে কলমের চেয়ে আরও বেশি ভাড়া বাসা মালিকরা আদায় করছেন প্রতিনিয়ত। এসব আগেও কেউ দেখেনি। কেউ অভিযোগও আমলে নেননি। অভিযোগ করলে বাসমালিকদের ধর্মঘটের ভয়ে কাঁপেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জনগণের উপকার বলতে কিছু নেই রাস্তায়। গাড়িতে প্রতিনিয়ত জিম্মি হয়ে পড়ছেন সাধারণ বাসের যাত্রীরা। এসব মূলত দেখার কেউ নেই।

এমন পরিস্থিতিতে বেসরকারি বাস মালিকরা সাধারণ বাসের ভাড়া বৃদ্ধির দাবি তুলেছেন। তাঁদের যুক্তি, সরকার সিএনজির দাম বাড়িয়েছে, বাজারে টায়ার-টিউব, যন্ত্রাংশসহ আনুষঙ্গিক প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়েছে। তাই ২০১৫ সালে নির্ধারিত ভাড়ায় ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) বাজার সমীক্ষাও শুরু করেছে। কিন্তু নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে বিআরটিএ কোনো পদক্ষেপই নিচ্ছে না। তাহলে বাসযাত্রীদের স্বার্থ দেখবে কে?

২০১১ সালে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর নন-এসি বাসভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১৫ পয়সা বাড়িয়ে এক টাকা ৩৫ পয়সা করা হয়েছিল। ২০১৫ সালে আবার ১০ পয়সা বাড়িয়ে করা হয় এক টাকা ৪৫ পয়সা। তখন ডিজেলের দাম কমে যাওয়ায় ডিজেলচালিত বাসের ভাড়া তিন পয়সা কমিয়ে এক টাকা ৪২ পয়সা করা হয়েছিল। এখন অনেক রুটেই ভাড়ার এই হার মানা হচ্ছে না। দেড় থেকে দুই গুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। সিটিংয়ের কথা বলেও যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে।

ঠাসাঠাসি করে যাত্রী তুলেও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। ঢাকার রাস্তায় বাস মানেই এক আতঙ্ক। রাস্তার কোনো নিয়ম-কানুন না মানা এবং প্রতিযোগিতা করে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন সেই জনগণই। এর কারণ, শ্রমিকদের হাতে ঠিকা চুক্তিতে গাড়ি তুলে দেওয়া এবং লাভ করার জন্য তাদের বেসামাল হয়ে ওঠা। সে কারণে ভাড়ার নির্ধারিত হারও মানা হয় না। ১০ টাকার ভাড়া ২০ টাকাও আদায় করা হয়। এসব নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে ঝগড়া লেগেই থাকে। বাসগুলোর এমন নৈরাজ্য সবার আগে দূর করা প্রয়োজন। তারপর বাস মালিকদের আবদার যুক্তিসঙ্গত কিনা খতিয়ে দেখতে হবে।

ইনসার্ট : শ্রমিকদের হাতে ঠিকা চুক্তিতে গাড়ি তুলে দেওয়া এবং লাভ করার জন্য তাদের বেসামাল হয়ে ওঠা। সে কারণে ভাড়ার নির্ধারিত হারও মানা হয় না। ১০ টাকার ভাড়া ২০ টাকাও আদায় করা হয়। এসব নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে ঝগড়া লেগেই থাকে। বাসগুলোর এমন নৈরাজ্য সবার আগে দূর করা প্রয়োজন। তারপর বাস মালিকদের আবদার যুক্তিসঙ্গত কিনা খতিয়ে দেখতে হবে

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *