পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি’র প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় একযোগে প্রস্তাব আনছে তৃণমূল নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার ও বিরোধী বাম-কংগ্রেস।
বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিধানসভা বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটির বৈঠকে ওই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিজেপি অবশ্য ওই প্রস্তাবের সাথে নেই। এনআরসির বিরোধিতা করে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর সরকারিভাবে প্রস্তাব আনা হবে। বিধানসভায় এর উপরে আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত থাকবেন।
মঙ্গলবার বিধানসভায় জিরো আওয়ারে বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, অন্য কাজ সরিয়ে রেখে অবিলম্বে আলোচনা করে এনআরসি’র বিরুদ্ধে প্রস্তাব গ্রহণ করা হোক। একই দাবি তোলেন কংগ্রেস বিধায়ক অসিত মিত্রও। রাজ্যের মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও বলেন, এই রাজ্যে এনআরসি চালু করার দাবি কোনোভাবেই মানা যায় না।
লোকসভা নির্বাচনের আগে থেকেই এনআরসির বিরোধিতা করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিভিন্ন সভা সমাবেশ থেকে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না বলে তা একাধিকবার কেন্দ্রীয় সরকারকে বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি অসমে নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা থেকে ১৯ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়া নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মমতা।
বিজেপি নেতারা এরইমধ্যে অসমের মতো পশ্চিমবঙ্গেও এনআরসি করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার আগেভাগেই কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের সম্ভাব্য পদক্ষেপের বিরোধিতায় সোচ্চার হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক্ষেত্রে রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল, বিরোধী বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসকে সাথে পেয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অসমে এনআরসির চূড়ান্ত তালিকায় ১৯ লাখ মানুষের নাম বাদ যাওয়া প্রসঙ্গে বলেন, বিজেপিকে টার্গেট করে বলেন, রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করা হচ্ছিল, তাদের মুখোশ খুলে দিয়েছে এনআরসি বিপর্যয়। তাদের দেশকে জবাব দিতে হবে। দেশ ও সমাজের স্বার্থ পরিহার করে অসৎ উদ্দেশ্যে কাজ করলে এমনটাই ঘটে বলেও মমতা মন্তব্য করেন।


